বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সুবর্ণরেখা

এম মামুন হোসেন

জাতীয়

স্বাধীনতার পর নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীনের অবস্থান এবং স্বাধীনতার পর দূরত্ব সত্ত্বেও

2026-06-24T02:09:32+00:00
2026-06-24T02:09:32+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সুবর্ণরেখা
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ২:০৯ এএম 
প্রতীকী ছবি
স্বাধীনতার পর নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীনের অবস্থান এবং স্বাধীনতার পর দূরত্ব সত্ত্বেও দুই দেশ ধীরে ধীরে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে বিএনপির ভূমিকা। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়।

প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় সেই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়। রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর নতুন করে আলোচনায় এনেছে এই সম্পর্কের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য এই সফর, না বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা সেই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচিত।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান যত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, ততই বাড়ছে চীনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই বেইজিং এখন বাংলাদেশের অন্যতম বড় অংশীদার। তবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কেবল সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার গল্প নয়; এর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাস্তবতা, কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস এবং জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

তাদের মতে, এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অগ্রাধিকার এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল স্পষ্ট হতে পারে।

সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়েছে। এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যেখানে বিএনপির শাসনামলে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি ও বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। জিয়াউর রহমানের সময় যে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছিল, খালেদা জিয়ার সময়ে তা আরও বিস্তৃত হয়। 

বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় কী রূপ নেয়, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে। 


একদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে সম্পর্ক বাড়াতে চায়। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশকে তার আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অবকাঠামো উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে। ভারতের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্ব আলাদা। দুই দেশের সীমান্ত, নদী, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কের কারণে দিল্লির কাছে ঢাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। এই ত্রিমুখী সমীকরণে বাংলাদেশের কূটনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হলো কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করবে এমন ধারণা যেমন সঠিক নয়, তেমনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা কমিয়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত নয়।

তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রথমত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তৃতীয়ত আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ আসতে পারে। 

তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে- চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে জাতীয় উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করা, যেখানে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সব অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা থাকবে। অর্ধশতাব্দীর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তনের মধ্যেও দুই দেশ নিজেদের স্বার্থে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের শুরুটা ছিল জটিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীন পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে অবস্থান নিয়েছিল। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের উদ্যোগে চীনের ভেটো দুই দেশের সম্পর্কের দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন, দক্ষিণ এশিয়ার নতুন বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের বহুমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলে দেয়। ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ১৯৭৬ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

অর্ধশতাব্দীর এই যাত্রায় ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক কখনো শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং কৌশলগত যোগাযোগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জিয়াউর রহমানের সময়ে সম্পর্কের ভিত্তি : 
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রাথমিক ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কাল। ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন। ওই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন মাত্রা পায়। জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বহুমুখী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। 

সে সময় বাংলাদেশ একদিকে পশ্চিমা বিশ্ব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ায়, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত করে। সত্তর দশকের শেষ ভাগে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা শুরু হয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হতে শুরু করে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি জিয়ার সময়ের উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো দেয়। কারণ তখন থেকেই দুই দেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থের জায়গা থেকে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করে।

খালেদা জিয়ার সময়ে সম্পর্কের বিস্তার : 
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে বাংলাদেশ তখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন অংশীদার খুঁজছিল। এই বাস্তবতায় চীন দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া একাধিকবার চীন সফর করেন। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রাজনৈতিক আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে (১৯৯১-১৯৯৬) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ে। পরবর্তী সময়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়। এই সময় চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎসে পরিণত হয়। পাশাপাশি বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়, যা দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের একটি আলাদা মাত্রা তৈরি করে।

চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিল্পাঞ্চল, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বেড়েছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের বড় অংশ রয়েছে জ্বালানি, পরিবহন, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে। তবে এই সম্পর্কের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বাংলাদেশ চীনের বাজারে আরও বেশি পণ্য প্রবেশের সুযোগ চায়। এ ছাড়া বড় প্রকল্পে ঋণনির্ভরতা, প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা এবং স্থানীয় শিল্পে প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি। শিল্প উৎপাদন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক প্রভাব- সব ক্ষেত্রেই চীনের ভূমিকা বেড়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে চীন এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে চীনের এই উদ্যোগে যুক্ত হয়। এরপর থেকে অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের উপস্থিতি ভারতের জন্যও কৌশলগত বিবেচনার বিষয়। ফলে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা গ্রহণ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তারেক রহমানের চীন সফর : 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতি যোগ করবে। দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যের কাঠামো উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা করবে এবং আরও বেশি মানসম্পন্ন বাংলাদেশি পণ্য চীনা বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে। বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুততর করা হবে এবং আরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব লাভ করেছে। চীন সবসময় বাংলাদেশকে বৈশ্বিক দক্ষিণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং জাতিসংঘ ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর যৌথ স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের সময় দুই দেশের নেতারা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে গভীর মতবিনিময় করবেন, নিজেদের অবস্থান আরও সমন্বয় করবেন এবং ঐকমত্য গড়ে তুলবেন। চীন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ বৈশ্বিক দক্ষিণের বিষয়ে আরও সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতের অর্জনের ভিত্তিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন এক নতুন সূচনায় দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও দলীয় যোগাযোগ আরও বাড়বে এবং পারস্পরিক আস্থা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবুজ অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও ব্যবসা উন্নয়নের মতো খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে, যা দুই দেশের মানুষের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে।

জনসম্পর্কের ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় হবে। ফলে দুই দেশের মানুষের হৃদয়ে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও গভীরভাবে বিকশিত হবে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথচলায় চীন ও বাংলাদেশ সবসময় একে অন্যের পাশে থাকবে এবং হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাবে। এতে দুই দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন, এশিয়ার সমৃদ্ধি এবং মানবজাতির জন্য অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন ও বড় অবদান রাখা সম্ভব হবে।

সমুদ্রের জোয়ার যখন পূর্ণতায় থাকে আর পাল যখন অনুকূল বাতাসে ভরা থাকে, তখনই যাত্রা সবচেয়ে সফল হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই চীন সফরও তেমনই চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য আরও বৃহৎ ও উজ্জ্বল রূপরেখা তৈরি করবে। নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   বাংলাদেশ  চীন  সম্পর্ক  সুবর্ণরেখা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: