সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন এমিরেটস তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বড় নিয়োগ শুরু করেছে, তবে এশিয়া-ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জুলাই ও আগস্টে যে সরাসরি রোডশো হবে, তার তালিকায় বাংলাদেশ নেই। কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী নিয়োগ সেশন হবে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারতসহ কয়েকটি বাজারে, পাশাপাশি দুবাইয়ে চলমান শূন্যপদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
এমিরেটস জানিয়েছে, ২০২৭ সালে দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রালে ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লেক্স চালুর প্রস্তুতি চলছে, যেখানে হাজারো টেকনিশিয়ান, লাইসেন্সড এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার এবং এভিয়নিক্স বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হবে।
নিয়োগের পেছনে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড আর্থিক ফল। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এমিরেটস গ্রুপের কর-পূর্ব মুনাফা ২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন দিরহাম, রাজস্ব ১৫০ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহাম এবং নগদ রিজার্ভ ৫৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামে পৌঁছেছে। গ্রুপের মোট কর্মী এক বছরে ৮% বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে, এবং কর্মীদের ২০ সপ্তাহের বেতনের সমান বোনাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা ভিসা প্রক্রিয়ার ধীরগতির কথা বলছেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে ইউএই বাংলাদেশিদের জন্য লেবার, ট্যুরিস্ট ও ট্রানজিট ভিসা ইস্যু ‘প্রায় বন্ধ’ করে দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এক সময়ের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পরিচিত ইউএই ভিসা ইস্যু ধীর করে দিয়েছে মিড-২০২৪ থেকে।
ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) এর তথ্য এই চিত্রকে সমর্থন করে। ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৮২২ জন, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে ৪৭ হাজার ১৬৬ জন, আর গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৮,০০০ সেমি ও স্কিল্ড কর্মী গেছেন। দেশটিতে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন, যারা এই ভিসা স্থবিরতায় সরাসরি প্রভাবিত।
কেন এই কড়াকড়ি, তার ব্যাখ্যায় দুটি বিষয় সামনে আসছে। একাধিক সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর অনানুষ্ঠানিক বিধি নিষেধ শুরু হয়। পাশাপাশি ইউএই কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে রিক্রুটমেন্ট জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে, সরকারি সূত্র বলছে ভিসা লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশিদের হার উদ্বেগজনক।
আনুষ্ঠানিক অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। সাম্প্রতিক হময়েও আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বিবৃতি দিয়ে জানায়, আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞার কোনো সরকারি ঘোষণা নেই, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো খবর ভুল তথ্য।
ফলে বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে দুই রকম। কাগজে নিষেধাজ্ঞা নেই, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ওয়ার্ক পারমিট আটকে যাওয়ায় রিক্রুটাররা ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশকে রোডশো তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন। এমিরেটসের চলমান ড্রাইভে কলম্বো, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংককে সরাসরি ইন্টারভিউ হবে, ঢাকায় কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি প্রতিটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তোলা হচ্ছে বলে জানান। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমাধান দ্রুত না হলে এ৩৮০ ও বি৭৭৭ ফ্লিটে কাজের ট্যাক্স-ফ্রি সুযোগ, বৈশ্বিক লাইসেন্স, ট্রেনিং এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নিজস্ব এমআরও সক্ষমতা গড়ার অভিজ্ঞতা— সবই হাতছাড়া হবে।
সময়ের আলো/জোই