গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় যুবদল নেতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ খন্দকার (৩০), বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম (৪৫) এবং যুবদল কর্মী শাহ আলম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল্লাহ বারী হত্যার ঘটনায় সোমবার (২৩ জুন) রাতে সাঘাটা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান।
পরে পুলিশি অভিযান চালিয়ে প্রথমে এক আসামিকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে বোনারপাড়া এলাকা থেকে আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ কয়েকজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন যুবদল নেতা এবং একজন বিএনপির কর্মী।
ওসি (তদন্ত) পবিত্র কুমার জানান, গ্রেফতার তিনজনকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বেলা পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা বারীকে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার পর ওই রাতে জেলা যুবদল মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে গাইবান্ধা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
সময়ের আলো/জেডি