রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগে সেশনজট নিরসন, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতির প্রতিবাদে বিভাগের সামনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভাগের মূল ফটকে তালা মেরে সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা জোরদার স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট, সময়মতো ফল প্রকাশ না হওয়া এবং নির্দিষ্ট অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ না করার কারণে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সমাধান না মেলায় তারা এই কঠোর কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাপন জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ব্যাচের অনার্স ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, সেশনজটের কারণে তা শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। অনার্সের ফল প্রকাশের পর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও মাস্টার্সের কোনো ক্লাস, পরীক্ষা বা রুটিন দেওয়া হয়নি। ‘কারিকুলাম প্রস্তুত নেই’—বিভাগের এমন অজুহাত মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতির কারণে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের দাবি, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই মানবিক বিবেচনায় তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হোক। যে সেমিস্টার ছয় মাসে শেষ হওয়ার কথা, সেটি নয় মাস পেরিয়ে গেলেও শেষ হচ্ছে না। সেশনজটের কারণে আমাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা এর দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান চাই।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি কাজি রবিউল আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্য নয় এবং সেই নিয়মই বজায় রাখা হয়েছে। আজ থেকেই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছে, বাদ পড়া সহপাঠীদের সুযোগ না দিলে তারাও পরীক্ষায় বসবে না। আমি তাদের জানিয়েছি যে, এককভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূলত এই বিষয়টি নিয়েই তারা আন্দোলন করছে।
সময়ের আলো/জোই