দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট পেলে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।’
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ঢাকার ধামরাইয়ের স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন ত্রাণমন্ত্রী। পরে ধামরাইয়ে খননকাজ চলমান একটি খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন।
খাল খননের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘খাল খননের কার্যক্রম চার-পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ৭ হাজার কিলোমিটার। এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। আপনারা সবাই জানেন, এ বছর আগাম বৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে অনেক জায়গায় হয়ত সুষ্ঠুভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।’
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন বাংলাদেশ খাদ্যঘাটতির দেশ ছিল। তিনি এই খাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত করেছিলেন এবং বিদেশে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় অবজ্ঞা, অবহেলা ও অযত্নে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, বেদখল হয়েছে।’
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘এখন আমরা দেখছি, খাল কেটে মানুষের মুখে হাসি ফিরছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে চাই। আপনারা জানেন, পার্শ্ববর্তী দেশের পানিবৈষম্যের কারণে আমাদের দেশের অনেক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উপরিভাগের পানিকে ধরে রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই খালের মাধ্যমে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন হবে, শুকনো মৌসুমে কৃষকদের সেচের জন্য পানি সরবরাহ করা যাবে। পাশাপাশি আমরা খালের পাড়ে গাছ লাগাব। আমাদের ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছ লাগানো শুরু হয়েছে। আমরা চাই, সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষদের এ কাজে সম্পৃক্ত করতে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান হয় এবং আয়বর্ধক কর্মসূচি হিসেবে এটি কাজে আসে। আমরা চেষ্টা করছি পুরো কার্যক্রম দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালনা করতে। কোথাও অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক তদন্ত টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।’
খাল খননে ২৫ শতাংশ শ্রমিক সম্পৃক্ত করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ কাজ ভেকু দিয়ে করা হচ্ছে- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘না, মূল খননের কাজ ভেকু দিয়ে করা হবে। কারণ, এটি ড্রেজিংয়ের কাজ। তবে স্লোপিং, বৃক্ষরোপণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শ্রমিকের মাধ্যমে করা হবে। আপনারা জানেন, বর্তমানে এ কাজে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খুবই কম। আগামী অর্থবছরে এই মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে এ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।’
এ সময় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জানি, মানুষের বিএনপির ওপর বিশাল আস্থা ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সর্বোপরি আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি জনগণের এই আস্থা তৈরি হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আজ ধামরাইয়ে এসেছেন। আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
সময়ের আলো/মহু