ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই কেঁপে উঠেছে জাপানও। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৯। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের দুই প্রান্তে শক্তিশালী ভূকম্পনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় দেশটির উত্তর-পূর্বে ইওয়াতে উপকূলের কাছে আঘাত হানে এই ভূমিকম্প।
তবে ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। জাপান সরকারও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সুনামির কোনো ঝুঁকি কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুজি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫১ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পরপরই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। তিনি জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, “এই ভূমিকম্প থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দেশের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি।
অন্যদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি (জেআর ইস্ট) সাময়িকভাবে তাদের বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করেছে। এর ফলে জাপানের মূল দ্বীপের উত্তর প্রান্ত শিন-আওমোরি থেকে রাজধানী টোকিও পর্যন্ত চলাচলকারী শিনকানসেন ট্রেনের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছে জাপান সরকার।
সময়ের আলো/এসএকে