জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখা কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান, একাডেমিক কার্যক্রম ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানি। তবে সেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলায় খেলা সম্প্রচারে বিলম্ব হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী সানির অভিযোগ, রাত পৌনে ১১টার দিকে খেলার পর্দা বন্ধ হয়ে গেলে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, দর্শকরা মঞ্চ এলাকা খালি না করা পর্যন্ত খেলা চালু করা হবে না। এ সময় দ্রুত খেলা সম্প্রচারের পক্ষে কথা বললে তার সঙ্গে কিরণের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কিরণ মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাকে ধাক্কা দেন। পরে কিরণ, আসাদুজ্জামান ইমন, সাহানুর রহমান সানজুসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি শ্বাসরোধের চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি তার।
ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কিরণ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ইমন এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সাহানুর রহমান সানজুর নাম উঠে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আসাদুজ্জামান ইমনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। পাশাপাশি সাহানুর রহমান সানজুর বিরুদ্ধে আবাসিক হলে অবস্থান, একাডেমিক কার্যক্রম ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। মাহমুদুর রহমান কিরণ বলেন, অতিরিক্ত দর্শকের কারণে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তিনি তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন। তার দাবি, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেবল কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
একইভাবে আসাদুজ্জামান ইমনও মারধরের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, তারা কেবল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে সাহানুর রহমান সানজুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তার সহপাঠী ও আবাসিক হলের বন্ধুরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপ-উপাচার্যদ্বয়, রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে ঘটনার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
সময়ের আলো/এসএকে