গাজীপুরের শ্রীপুরে অসুস্থ অবস্থায় ছুটি না পেয়ে কারখানার ভেতরেই লিজা (৩৭) নামে নারী শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৫ জুন) সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
নিহত লিজা পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড-এ সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সহকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই লিজা অসুস্থ ছিলেন। সর্বশেষ গত ১১ জুন তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হন। এরপর প্রায় ১২ দিন চিকিৎসা ও বিশ্রামে থাকার পর ২৪ জুন পুনরায় কাজে যোগ দেন। কিন্তু কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একাধিকবার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের কাছে ছুটি চাইলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি।
সহকর্মীদের ভাষ্য, অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজ করতে করতে একপর্যায়ে লিজা কারখানার ভেতরেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বদর গ্রুপের অধীনস্থ আরও ৩টি কারখানার শ্রমিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বুধবার সকাল থেকে তারা কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং কয়েকটি কারখানায় দফায় দফায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
নিহতের সহকর্মী সুইং অপারেটর রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘লিজা বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিল। চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার কাজে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে বারবার ছুটি চাইলেও কর্তৃপক্ষ ছুটি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত কারখানার ভেতরেই তার মৃত্যু হয়।’
আরেক শ্রমিক জয়নাল বলেন, ‘আমরা অসুস্থ হলেও সহজে ছুটি পাই না। উল্টো গালাগাল শুনতে হয়। আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আজ লিজা মারা গেছে, কাল হয়ত আমি বা অন্য কেউ মারা যাব।’
তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম বলেন, ‘লিজার মরদেহ মঙ্গলবার রাতেই তার স্বামী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিহতের স্বামী জানিয়েছেন, লিজা আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে গ্রুপটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু শ্রমিক মাঝেমধ্যে আন্দোলনে নামছেন এবং কোথাও কোথাও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে।’
সময়ের আলো/মহু