জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবি উঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপিত হলে সিন্ডিকেট সদস্যরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে পাঠান। তবে এখন পর্যন্ত সিনেটে বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নাম পরিবর্তন নিয়ে আসেনি কোনো সিদ্ধান্ত। তাই আগের নামেই চলছে সব কার্যক্রম।
এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দুটি আবাসিক হল, একটি হোস্টেল এবং দুটি স্টাফ কোয়ার্টার। নাম পরিবর্তনের আওতায় থাকা স্থাপনাগুলো হলো- শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও সুলতানা কামাল হোস্টেল।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে দুটি হলের নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদী হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নতুন নাম ‘ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ রাখার কথা বলা হয়েছে।
স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তৎকালীন ঢাবি প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, সিন্ডিকেট সভায় এটি অনুমোদন পেলেও সিনেট পুনর্গঠন সম্পন্ন হওয়ার পরই সিদ্ধান্তটি স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেছিলেন, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট শুধু সুপারিশ প্রদান করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সিনেটে বহু সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ও বিস্তৃত আলোচনা হবে।
সিনেটে এজেন্ডাভুক্ত নাম পরিবর্তনের বিষয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিউট, বার্ষিক প্রতিবেদন, হিসাব ও আর্থিক প্রাক্কলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিন্ডিকেটের প্রস্তাব বা উপস্থাপনার ভিত্তিতে সিনেটে বিবেচিত ও অনুমোদিত হয়।
প্রশাসনিক দিক থেকে সিন্ডিকেটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী সংস্থা। কিন্তু আইনগত বা সংবিধিবদ্ধ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো সিনেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সিনেটের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হয় না।
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নীতিগত বা সংবিধিবদ্ধ বিষয়ে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কমিটি সুপারিশ বা প্রস্তাব প্রণয়ন করে। এরপর বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় পর্যালোচনা করা হয়। সিন্ডিকেট প্রস্তাবটি অনুমোদন বা সুপারিশ করলে তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে উপস্থাপন করা হয়। সিনেট আলোচনার পর প্রস্তাবটি অনুমোদন, সংশোধন কিংবা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখে।
এক হলের নাম একাধিকবার পরিবর্তন : ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ধ্বংসের পর গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে নাম পরিবর্তন করে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল’ নামকরণ করে একদল শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেখ মুজিবুর রহমান হলের পুরাতন বিল্ডিংয়ে থাকা নামটি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তুলে ফেলে সেখানে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল’ নামকরণ করেন। এ সময় সেই হলের শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর গ্রহণ করে এই নতুন নামকরণ করেন। অন্যদিকে বিজয় একাত্তর হল ও অমর একুশে হলের ফলকে থাকা শেখ হাসিনার নাম শিক্ষার্থীরা মুছে ফেলেন।
পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর হল সংসদ নেতাদের নেতৃত্বে পুনরায় হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছে। এক হলের একাধিকবার নাম পরিবর্তনে বিব্রত অবস্থায় পড়েন সেই হলের শিক্ষার্থীরা। সে সময় তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও