আশুরায় করণীয় ও বর্জনীয়

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এই মাসের ১০ তারিখকে ‘আশুরা’র দিন বলা হয়। মুসলিম উম্মাহর জন্য এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ

2026-06-26T11:25:36+00:00
2026-06-26T11:25:36+00:00
 
  শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬,
১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ইসলাম
আশুরায় করণীয় ও বর্জনীয়
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এই মাসের ১০ তারিখকে ‘আশুরা’র দিন বলা হয়। মুসলিম উম্মাহর জন্য এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতময় দিন। এ দিনে রোজা, তাওবা-ইসতেগফার, দান-সদকা এবং আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে ইসলামে। একই সঙ্গে ইসলামের নামে প্রচলিত কুসংস্কার, মিথ্যা বর্ণনা ও অনৈসলামিক রীতিনীতি থেকে বিরত থাকারও শিক্ষা দেয় ইসলাম। নিচে আশুরার করণীয়-বর্জণীয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আশুরায় করণীয়

১. রোজা রাখা

আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম)

তবে শুধু ১০ মহররম নয়, ইহুদিদের থেকে ভিন্নতা বজায় রাখতে ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম, দুই দিন রোজা রাখা উত্তম। (মুসনাদে আহমাদ)

২. তাওবা ও ইসতেগফার করা

মহররম আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। এ মাসে বেশি বেশি তাওবা, ইসতেগফার ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘মহররম আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্য সম্প্রদায়কেও ক্ষমা করবেন।’ (তিরমিজি)

৩. ত্যাগ ও কুরবানির শিক্ষা গ্রহণ

আশুরা আমাদের হজরত হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা এবং দ্বীনের জন্য ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা গড়ে তোলাই এ দিনের অন্যতম শিক্ষা।

৪. দান-সদকা ও ইফতার করানো

আশুরার দিনে নিজে রোজা রাখার পাশাপাশি রোজাদারকে ইফতার করানো, সাধ্যমতো দান-সদকা করা, গরিব-অসহায় ও এতিমদের সহযোগিতা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।


আশুরায় বর্জনীয়
আশুরাকে কেন্দ্র করে ইসলামে ভিত্তিহীন ও অনৈসলামিক নানা প্রথা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এসব থেকে বিরত থাকা জরুরি। যেমন—

হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে তাযিয়া বা নকল কবর তৈরি করা।তাযিয়া নিয়ে মিছিল করা বা সড়ক প্রদক্ষিণ করা।তাযিয়ার সামনে সম্মান প্রদর্শন বা নজরানা দেওয়া।শরীরে আঘাত করা, নিজেকে রক্তাক্ত করা বা শোক-মাতম করা।‘হায় হুসাইন’, ‘হায় আলি’ ইত্যাদি বলে বিলাপ ও মর্সিয়া পাঠ করা।অস্ত্র-সজ্জিত শোভাযাত্রা বা ঘোড়ার প্রদর্শনী করা।বাদ্যযন্ত্রসহ তাযিয়া প্রদর্শন করা।হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর নামে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো বা এটিকে কল্যাণের মাধ্যম মনে করা।আশুরার শোক প্রকাশের জন্য বিশেষ কালো বা সবুজ পোশাককে ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক মনে করা।

আল্লাহ তায়ালা সবাইকে আশুরার ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো যথাযথভাবে পালনের, কুসংস্কার ও মিথ্যা প্রচারণা থেকে দূরে থাকার এবং সহিহ হাদিস অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   আশুরা  মহররম  ইসলাম  ফজিলত  ইতিহাস 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: