কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় রাশিদা বেগম (৪২) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় মাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার দুই মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশিদা বেগম ওই গ্রামের পলাতক দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, মহেশপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে খোরশেদ আলম বিডিআর গ্রুপ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রহিম সরকার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে রহিম সরকার গ্রুপের সদস্য মাওলা সরকার হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই মামলায় রাশিদা বেগমের স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
স্বজনদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাশিদা বেগম বাড়ি থেকে পালিত সাতটি গরু নিয়ে মহেশপুর গ্রামে আসেন। গরুগুলো একটি পিকআপ ভ্যানে তোলার পর তিনি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় রহিম সরকার গ্রুপের সদস্য সামাদ, রশিদ, শিরিনা এবং তাদের সহযোগী ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল পিকআপটির গতিরোধ করে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা রাশিদা বেগমকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার দুই মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৮) ও আছিয়া আক্তারকেও মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে রাশিদা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহতের মামা সালাউদ্দিন বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাগনিকে হত্যা করা হয়েছে। তার দুই মেয়েও হামলায় আহত হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আলম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
সময়ের আলো/এসএকে