চট্টগ্রামের রাউজানে নির্মাণাধীন একটি সেফটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটি পাড়া এলাকায় লক্ষণ ডাক্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের নিমাই দাশের ছেলে প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল এলাকার বিষু দাশের ছেলে সমীরণ দাশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটির রান্নাঘর ও বাথরুম নির্মাণকাজ গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে চলছিল। বৃষ্টির কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সেফটিক ট্যাংকের ঢাকনা বন্ধ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার দুপুরে কাজের ঠিকাদার ট্যাংকে নামার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধারের জন্য ঘরে থাকা মেয়ের স্বামী প্রদীপ দাশ ট্যাংকে নামেন।
এ সময় ঠিকাদার মুমূর্ষু অবস্থায় উপরে উঠতে সক্ষম হলেও প্রদীপ দাশ ট্যাংকের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অনেকে এটিকে ‘খারাপ দেবতা’ বা ‘ভূতের টান’ বলে মনে করে এগিয়ে আসতে ভয় পান।
পরে পরিবারের সদস্যরা বোয়ালখালী থেকে ভাগিনা সমীরণ দাশকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ট্যাংকে নেমে উদ্ধারচেষ্টা চালান। কিন্তু তিনিও গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে নোয়াপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের বিষক্রিয়ায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন