একটি মসজিদ ও একজন ইমামের টানা ৪৪ বছরের এক নিবেদিত পথচলা। দীর্ঘ এই অধ্যায়ের শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর মধ্যপাড়া বাইতুল হারাম জামে মসজিদ থেকে অবসরে গেলেন হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদ। ফুলে-ভরা গাড়িতে এ বিদায় ছিল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতায় ভরা এক আবেগঘন মুহূর্ত।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি। পরে জুমার নামাজ শেষে ফুল দিয়ে সজ্জিত একটি গাড়িতে করে তাকে বিদায় জানানো হয়। দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি হিসেবে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোবারক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কায়েমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকার, মসজিদ কমিটির সভাপতি শামসুল হক, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মন মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ভূঁইয়া বাড়ি সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রউফ, বর্ণমালা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইমন হাসান বিজয়, মাসুদ রানা ভূঁইয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাওলানা বশির আহমেদের জীবন শুধু একজন ইমামের দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি ছিলেন এলাকার মানুষের ধর্মীয় পরামর্শদাতা, শিক্ষক এবং আস্থার প্রতীক।
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘মাওলানা বশির আহমেদ দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই মসজিদে ইমামতি করেছেন। তিনি শুধু ধর্মীয় নেতা নন, আমাদের অনেকের শিক্ষকও। তার অবদান এলাকাবাসী সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য হাসেম মিয়া। তিনি বলেন, ‘একই মসজিদে প্রায় চার যুগ ধরে একজন ইমামের দায়িত্ব পালন সত্যিই বিরল ঘটনা। তার কর্মজীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়। মহান আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।’
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মাওলানা বশির আহমেদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে আবেগঘন। বহু বছর ধরে একসঙ্গে নামাজ আদায় করা মুসল্লিরা, এলাকার প্রবীণ ও তরুণরা প্রিয় ইমামকে বিদায় জানাতে ভিড় করেন। ফুলে সাজানো গাড়িতে যখন তিনি মসজিদ প্রাঙ্গণ ছাড়েন, তখন অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সেই আবেগ যেন বিদায়ের মুহূর্তে এক অনন্য দৃশ্যে রূপ নেয়।