পদ্মা পাড়ের শিমুলিয়া ঘাটে যেন নেমে এসেছিল এক টুকরো বুয়েনস আইরেস! বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসার আগমনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৬ জুন) মুন্সীগঞ্জে সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রিয় দলের রাষ্ট্রদূতকে একনজর দেখতে এবং তার সান্নিধ্য পেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শতশত আর্জেন্টিনা সমর্থক।
প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা জানাতে এদিন সমর্থকদের মাঝে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তাদেরই একজন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রিকাবীবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. তুহিন (৪০)। নিজের পুরো শরীর আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আকাশি-সাদা রঙে রাঙিয়ে তিনি হাজির হন ঘাটে। তার এই ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন সাজ উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের উষ্ণ ভালোবাসায় সিক্ত হন এবং সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল তখন, যখন রাষ্ট্রদূত নিজেই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমে পড়েন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে। প্রিয় দলের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একই মাঠে ফুটবল খেলতে পেরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যায় স্থানীয় সমর্থকদের মাঝে।
ফুটবল খেলা শেষে রাষ্ট্রদূত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে পদ্মা সেতু পরিদর্শনে যান এবং কাছ থেকে সেতুটি উপভোগ করেন।
এদিকে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি স্মৃতিময় ছবি তোলার জন্য সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক ব্যাকুলতা। দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই ফটোসেশন। ভক্তদের পরনে ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি এবং হাতে ছিল প্রিয় দলের পতাকা। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি যে সাধারণ মানুষের কী বিপুল ও নিখাদ ভালোবাসা রয়েছে, এই আয়োজনটি যেন আবারও তার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠল। প্রিয় দলের রাষ্ট্রদূতকে এত কাছ থেকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন ভক্তরা।
এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেন পুস্তি, লৌহজং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অপু চাকলাদারসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সময়ের আলো/জোই