কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক। সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ মে দৈনিক ‘সময়ের আলো’ পত্রিকায় ‘জলাবদ্ধতায় দুই বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বন্দী, পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজব্যবস্থার দাবি’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় দুটি ও এর আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে অস্থায়ী পাইপলাইন বসিয়ে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
উদ্বোধনকালে ইউএনও জানান, আপদকালীন এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি বরাদ্দ না থাকায় তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক লাখ টাকা ধার করে আপাতত পানি সরানোর অস্থায়ী ব্যবস্থা করছেন। তবে দ্রুতই স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি কালভার্ট কয়েক মাস আগে ভেঙে যাওয়ার পর সেটি আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। উল্টো কালভার্টের মুখের দুই পাশে বালু ভরাট করায় পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এর ওপর সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা ও চারপাশ প্লাবিত হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে তাদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যেত। শিক্ষকরাও জানান, জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব ও তীব্র দুর্গন্ধে স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, ভেঙে যাওয়া কালভার্টটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা গেলেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ মণ্ডল, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ কবীর, নাগেশ্বরী উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল মান্নান মিঞা, নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুল হক, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট জমির মালিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ইউএনওর এই দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় নবাগত এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই মন্তব্য করেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় এমন জনবান্ধব কর্মকর্তা থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসত।
সময়ের আলো/জোই