চাঁদপুরের কচুয়ায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মরিয়ম আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি স্বামী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ দূরত্বের পথ পাড়ি দিয়ে রংপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কচুয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, নিহত মরিয়ম আক্তারের বাবা বাদী হয়ে আলমগীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেফতারকৃত আলমগীরকে কচুয়া থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তাকে রোববার (২৮ জুন) আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। এছাড়া এই মামলার অপর অভিযুক্ত শাহীন আক্তারকে ইতোমধ্যে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের প্রধানীয়া বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৮ বছর আগে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত প্রায় দুই বছর ধরে আলমগীর তার চাচাতো ভাই প্রবাসী হুমায়ুনের স্ত্রী শাহীন আক্তারের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও ক্ষোভ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী মরিয়মকে বেধড়ক মারধর করেন।
মারধরের কারণে গুরুতর আহত মরিয়ম জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রথমে তাকে সাচারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী আলমগীর হোসেন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এদিকে ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরকীয়া সম্পর্কের সহযোগী অপর অভিযুক্ত শাহীন আক্তারকে আটকে রেখে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
সময়ের আলো/জোই