দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিনেটে অংশ নিতে যাচ্ছেন ছাত্র প্রতিনিধিরা। তবে ছাত্রত্ব নিয়ে জটিলতা থাকায় এবারের বার্ষিক সিনেট সভায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) শীর্ষ দুই নেতা ও জাকসু মনোনীত সিনেটর— ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাকসুর কার্যকরী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিনেটের ৪৩তম বার্ষিক সভায় পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে ছাত্র সিনেটর হিসেবে বহাল আছেন তিনজন। তারা হলেন, এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক শাফায়েত মীর।
শনিবার বেলা ১১টায় জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে একটি অনলাইন সভায় বাকি দুজন সিনেটর মনোনয়নের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ১৯(২) ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ছাত্র প্রতিনিধিরা যদি ছাত্র না থাকেন, তবে তাদের সিনেট সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামের ছাত্রত্ব ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং তিনি আবাসিক হলের সিটও ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, যথাসময়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ড্রপ-আউট' (ঝরে পড়া) হয়েছেন ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, তবে তিনি এখনো আবাসিক হল ছাড়েননি।
এ বিষয়ে জাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, কোনো অছাত্র ব্যক্তি ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সিনেট সদস্য হওয়া জাবি আইনের পরিপন্থী। আইন বহির্ভূত হওয়ায় ভিপি ও জিএস নিজেরাই এই সভায় অংশ নিতে চাননি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের এই সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উত্থাপন করা হবে। যার পরিমাণ যথাক্রমে ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ এবং ৩৪৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অধিবেশনেই এই বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই