জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট সজিব প্রামানিককে মারধরের পর পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও শ্যালকদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ১৯ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটায় রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ২৫ জুন দিবাগত রাতে সজিবের বাবা মো. মুন্নাফ প্রামানিক বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী সজিব প্রামানিকের সঙ্গে শাহজাদি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ১৮ জুন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সজিব উত্তরায় শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় স্বর্ণালঙ্কার কেনার জন্য সঙ্গে নেওয়া নগদ পাঁচ লাখ টাকা তিনি তার শ্যালক শাহাদত হোসেনের কাছে আমানত হিসেবে রাখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯ জুন দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রী শাহজাদি আক্তার তার দুই ভাই শাহাদত হোসেন ও শামছুদ্দিন শাওনকে ডাকেন। এরপর তারা সজিবকে বেদম মারধর করেন এবং একপর্যায়ে ভবনের পঞ্চম তলার বারান্দা থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিচে ফেলে দেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সজিবকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, ওপর থেকে পড়ার কারণে সজিবের দুই হাত, দুই পা, বুক ও কোমরের হাড় ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।
সজিবের স্বজনদের দাবি, তাকে ৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার পর ঘটনাটিকে 'আত্মহত্যা' বলে প্রচারের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। এছাড়া শ্যালক শাহাদত হোসেনের কাছে রাখা পাঁচ লাখ টাকা বারবার ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি, যা প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গের শামিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
উত্তরা পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের গ্রেফতারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রেখেছি।
সময়ের আলো/জোই