ফেবারিটদের চমকে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। গত দুই আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলেও পূর্বের ইতিহাস বলছে, নকআউট মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ

2026-06-29T03:28:57+00:00
2026-06-29T03:28:57+00:00
 
  সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
খেলা
ফেবারিটদের চমকে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৩:২৮ এএম 
সোমবার বোস্টনের মাঠে মুখোমুখি হবে জার্মানি ও প্যারাগুয়ে। সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। গত দুই আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলেও পূর্বের ইতিহাস বলছে, নকআউট মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দলটি বরাবরই দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার লড়াকু দল প্যারাগুয়ে বারবার দেখিয়েছে, বড় দলের সামনে তারা সহজে মাথা নত করে না। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বে দুই দলের এই লড়াই তাই শুধু ফেবারিট ও আন্ডারডগের গল্প নয়, বরং অভিজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও লড়াকু মানসিকতার আরেকটি বড় পরীক্ষাও।

সোমবার বোস্টনের মাঠে মুখোমুখি হবে জার্মানি ও প্যারাগুয়ে। গ্রুপ ‘ই’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে জার্মানরা। অন্যদিকে নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় হলেও সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ-৩২-এর টিকেট কেটেছে প্যারাগুয়ে। গ্রুপপর্বে দারুণ ছন্দে ছিল জার্মানি। 

প্রথম দুই ম্যাচে কুরাসাও এবং আইভরিকোস্টকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আক্রমণভাগের শক্তির জানান দেয় জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। তবে শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারায় রক্ষণভাগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবু আত্মবিশ্বাসে ভরপুর জার্মান শিবির। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই দলটিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে সৃজনশীলতা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একাধিক তারকা থাকায় নকআউটেও নিজেদের এগিয়ে রাখছে জার্মানি। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল অনেক বেশি সংগ্রামের। 

গ্রুপপর্বে মাত্র একটি জয় পেলেও সেটিই তাদের নকআউটের পথ তৈরি করে দেয়। তুরস্কের বিপক্ষে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে খেলেও ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। সেই ম্যাচেই তারা নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দেয়।

প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও দলগত ফুটবল। তারকাসমৃদ্ধ দল না হলেও শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলায় প্রতিপক্ষকে ভোগাতে পারে তারা। বিশেষ করে পাল্টা আক্রমণ এবং সেট-পিস থেকে সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। ইনজুরির দিক থেকে কিছুটা সমস্যায় রয়েছে জার্মানি। সেন্টার-ব্যাক নিকো শ্লটারবেক গোড়ালির চোটে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। ফলে আবারও আন্তোনিও রুডিগার ও জনাথন তাহ’র জুটির ওপর ভরসা করতে হবে কোচ নাগেলসমানকে। 

তবে স্বস্তির খবর হলো, পেশির সমস্যার কারণে ইকুয়েডরের বিপক্ষে না খেলা নাথানিয়েল ব্রাউন অনুশীলনে ফিরেছেন এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্যারাগুয়ের জন্যও রয়েছে দুশ্চিন্তা। দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার দিয়েগো গোমেজ দুই হলুদ কার্ডের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এ ছাড়া অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতের খেলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। ইতিহাসও বলছে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্যারাগুয়েকে হারানো সহজ নয়। 

২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জার্মানি তাদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। এরপর বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি বারবার নিজেদের লড়াকু চরিত্রের প্রমাণ দিয়েছে। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল লা আলবিরোজ্জারা। 


ম্যাচের আগে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। তার মতে, নকআউট পর্বে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারলেই কেবল পরের ধাপে যাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাবো আলফারোও আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানিয়েছেন, তার দল শুধু অংশ নিতে আসেনি বরং চমক দেখিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে পারলে জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

জার্মানির আক্রমণভাগে সবচেয়ে বড় ভরসা জামাল মুসিয়ালা। তার ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। ফ্লোরিয়ান ভির্টজ আক্রমণ গড়ার মূল কারিগর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। গোল করার দায়িত্ব থাকবে কাই হাভার্টজের কাঁধে আর ডেনিজ উনদাভ বদলি হিসেবেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ ও সেট-পিসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন যোশুয়া কিমিখ।

প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় তারকা গাব্রিয়েল আভালস। তার গতি ও অভিজ্ঞতা জার্মান রক্ষণকে ভোগাতে পারে। হুলিও এনসিসোর সৃজনশীলতা এবং আন্তোনিও সানাব্রিয়ার ফিনিশিংও হতে পারে দলের বড় অস্ত্র। রক্ষণভাগে অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের নেতৃত্ব প্যারাগুয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ফিফা র‍্যাংকিং-এ জার্মানি ১০-এ, অন্যদিকে প্যারাগুয়ের অবস্থান ৪১তম। কাগজে-কলমে জার্মানি স্পষ্ট ফেবারিট। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এখানে নাম কিংবা পরিসংখ্যান নয়, পার্থক্য গড়ে দেয় ৯০ মিনিটের লড়াই। তাই বোস্টনে জার্মানি ও প্যারাগুয়ের এই দ্বৈরথে ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন আরেকটি রোমাঞ্চকর নকআউট যুদ্ধের জন্য। 

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 



  বিষয়:   ফেবারিট  চমক  চ্যালেঞ্জ  বিশ্বকাপ 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: