শহিদ ছেলের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের (৫০) বিরুদ্ধে সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ৭

2026-06-29T08:48:12+00:00
2026-06-29T09:17:09+00:00
 
  সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ
শহিদ ছেলের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৮:৪৮ এএম  আপডেট: ২৯.০৬.২০২৬ ৯:১৭ এএম
শহিদ ছেলের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের (৫০) বিরুদ্ধে সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ৭ লাখ টাকা কাবিনে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। শহিদ ছেলের মা ও আব্দুল মতিনের প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগমের (৪৫) দাবি— প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া এবং শহিদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারি অনুদানের টাকা ব্যবহার করে এই বিয়ে করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মমতাজ বেগম ৬ জুন ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পর থেকেই তিনি চাকরিতে নেই বলে জানান আবদুল মতিন।

২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর মমতাজ বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একমাত্র ছেলে ছিলেন শাহরিয়ার। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর গত ২৯ মে আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই খবর পেয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে গত ২ জুন একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন মা মমতাজ বেগম। তবে পরিবারের সদস্যরা টের পাওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।


শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার জানামতে সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কেনার সামর্থ্য তার নেই। শহিদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকায় তিনি এই বিয়ে করেছেন। শহিদ পরিবারকে দেওয়া সরকারি বরাদ্দের এককালীন ৩০ লাখ টাকা আব্দুল মতিন আমার সই জালিয়াতি করে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আমার সতর্কতার কারণে তা ব্যর্থ হয়।

ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন জায়গায় ধান্ধাবাজি ও মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ শুরু করেন। আমি এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, আমার বংশ রক্ষার জন্য এবং বিশেষ করে আমার পরিবারের অনুরোধে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। বিয়ে করার আগে আমার প্রথম স্ত্রী অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন। তখন প্রমাণ হিসেবে এপ্রিল মাসে মেসেঞ্জারে স্ত্রীকে পাঠানো বার্তার একটি স্ক্রিনশটও দেখান।

তিনি আরও বলেন, আমি একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতাম, তাই বিয়ে করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিলো।  ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করার দাবিটি সত্য নয়। 

তিনি আরও জানান, বিয়ের পর তিনি প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে পাঁচবার চেষ্টা করলেও তাকে বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অসম্মান করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে নববধূর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে তিনি অপারগতা জানান।

এ বিষয়ে মমতাজ বেগম বলেন, স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে থেকে বিরত রাখতে নানা চেষ্টা করেছি। মেসেঞ্জারে অভিমান করে লেখা একটি বার্তাকেই স্বামী এখন অনুমতির প্রমাণ হিসেবে হাজির করছেন। অভিমান করে লেখা কোনো কথা কখনো দ্বিতীয় বিয়ের আইনি অনুমতি হতে পারে না।

এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রুহুল আমিন রিপন (জুলাই যোদ্ধা) বলেন, একজন জুলাই শহিদের বাবা হয়ে মতিন সাহেব যে কাজটি করেছেন তা মোটেও উচিত হয়নি। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

আল নূর আয়াস (কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) বলেন, বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না। ছেলেকে যদি তিনি সত্যিই ভালোবাসতেন, তাহলে এমন কাজ করতেন না। যেখানে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, তিনি চাইলে মেয়েটিকে নিয়েই সংসার পার করতে পারতেন।

উল্লেখ্য, শাহরিয়ার ছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মাত্র পাঁচটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ১০ জুলাই তিনি ঢাকায় মায়ের কাছে আসেন। পরে মিরপুর-২ নম্বরে খালার বাসায় বেড়াতে গিয়ে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন শাহরিয়ার। ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের কাছে তারা দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরে শাহরিয়ারের মৃত্যু হয়। শাহরিয়ারকে ঈশ্বরগঞ্জের নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুর পর প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলে শাহরিয়ার জিপিএ–৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এর আগে সিলেটের ব্লুবার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন তিনি।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   শহিদ  ছেলে  অনুদানের টাকা  বাবা  দ্বিতীয় বিয়ে  ঈশ্বরগঞ্জ  তোলপাড় 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: