কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রকল্পের বিল স্থগিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এইচ এম খোদাদাদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত মান অনুযায়ী পুনরায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল পরিশোধ করা হবে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পয়ড়াডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিল থেকে ভুষারখাল ব্রিজ পর্যন্ত ৫৯৬ মিটার এবং বিসি রোড থেকে মিন্টু কাউন্সিলরের বাড়ি পর্যন্ত ১১০ মিটার সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটি এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ চলাকালে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সাংবাদিক পরিচয়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে কাজ পরিচালনা করেছেন। এ অভিযোগের পাশাপাশি নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি পৌর প্রকৌশলীকে প্রকল্পের বিল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মান অনুযায়ী কাজটি পুনরায় সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে সময় বেঁধে দেন।
এ বিষয় জানার পর কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
এমপি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। তাই অনিয়মের অংশে নির্ধারিত মান অনুযায়ী নতুন করে সড়ক নির্মাণ না করা পর্যন্ত কোনো বিল পরিশোধ না করতে পৌর প্রকৌশলী ও ইউএনওকে বলেছি।’
ঠিকাদার এসটি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে রফিকুল সাংবাদিক টেন্ডার পেয়েছেন। এ কাজের জন্য আমি কোনো কমিশন পাইনি। প্রথম ধাপের বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে শুনেছি। অনিয়মের বিষয়ে জানতে হলে আপনাকে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কাজের মান নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল বিল পরিশোধ করা হবে।’
সময়ের আলো/মহু