মোবাইল ফোনে ইতালি প্রবাসী পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নারীর (৩৫) সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন প্রতারক শান্ত। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ফেরার কথা বলে ওই নারীকে লঞ্চের কেবিনে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর কৌশলে অচেতন করে নারীকে থানার সামনে ফেলে পালিয়ে গেছে যুবক।
বরিশালের মুলাদী থানার সামনে থেকে বুধবার (১ জুলাই) সকালে অচেতন অবস্থায় নারীটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টায় মুলাদী থানার সামনে নারীটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করার পর ওই নারীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার গল্প।
ভুক্তভোগী ওই নারী দুই সন্তানের জননী। তার বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর এলাকায়।
তিনি জানান, গত প্রায় ২ মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শান্ত নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শান্ত নিজেকে মাদারীপুরের বাসিন্দা এবং একজন ইতালি প্রবাসী বলে দাবি করে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) শান্ত তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় ডেকে আনে। পরে ঢাকা থেকে মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে বরিশালের মুলাদীগামী একটি লঞ্চের কেবিন ভাড়া নেয়। তারপর রাতভর ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে শান্ত। বুধবার সকালে লঞ্চটি মুলাদী পূর্ববাজার ঘাটে পৌঁছলে শান্ত তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দেয়। এতে নারীটি অচেতন হয়ে পড়লে- তাকে ভ্যানে তুলে দিয়ে চালককে মুলাদী থানার সামনে পাঠিয়ে দেয়। পরে নারীর মোবাইল, টাকা ও মালপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় ওই প্রতারক।
থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘মোবাইলে প্রতারণার শিকার নারী তালাকপ্রাপ্ত। তিনি গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতারক যুবককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।’
সময়ের আলো/মহু