সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার মানুষের জন্য সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও, অসমাপ্ত কাজের কারণে সেটিই এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চারটি সেতুর সঙ্গে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ নম্বর বিছনাকান্দি ইউনিয়ন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর উত্তর রনিখাই ইউনিয়নকে সংযুক্তকারী এ সড়কে আনফরের ভাঙ্গায় পিয়াইন নদীর ওপর নির্মিত সেতু, তুরং এলাকার কুলিছড়া সেতু, দমদমা ছড়ার ওপর দমদমা সেতু এবং পাহাড়তলী এলাকার একটি নির্মাণাধীন সেতুর সঙ্গে এখনো সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। ফলে প্রতিটি সেতুর দুই পাশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা পথচারী ও যানবাহনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুগুলোর মূল কাঠামো ও আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে রাতের অন্ধকার ও বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য অসাবধানতাতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
চরার বাজার, তোতার বাজার, কুপার বাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের পথ এটি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, পর্যটকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করলেও অসমাপ্ত সংযোগ সড়কের কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ধাপে ধাপে সড়কের উন্নয়ন কাজ হওয়ায় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। একাধিক ঠিকাদার কাজ করায় কোন অংশের সংযোগ কারা সম্পন্ন করবেন, তা নিয়েও জটিলতা রয়েছে। ফলে কামাল বস্তি, দমদমা, ভিতরগোল, কুপার বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে।
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্ষাকালে কাদা আর সংযোগহীন সেতুর কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দিনের চেয়ে রাতে চলাচল আরও বেশি বিপজ্জনক।’
তুরং গ্রামের গফফার মিয়া বলেন, ‘সড়কের উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা জরুরি। তা না হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে না।’
মোটরসাইকেল চালক কামাল মিয়া বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে অনেক পর্যটক যাতায়াত করেন। প্রতিটি সেতুর কাছে মোটরসাইকেল থেকে যাত্রী নামাতে হয়। এতে পর্যটকদের কাছে এলাকার নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা পর্যটনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পর্যটক সবাই উপকৃত হবেন। তাই দ্রুত চারটি সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনভোগান্তি দূর করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই চারটি সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
সময়ের আলো/এসএকে