নিয়তির অবিশ্বাস্য এক স্ক্রিপ্ট : ৮৬তম মিনিটের জুজুতে বিদায় নিল ৩ আফ্রিকান পরাশক্তি

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে এক অলৌকিক ও রহস্যময় কাকতালীয় ঘটনা, যা এখন ফুটবল বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয়।

2026-07-02T19:30:06+00:00
2026-07-02T19:30:06+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
খেলা
নিয়তির অবিশ্বাস্য এক স্ক্রিপ্ট : ৮৬তম মিনিটের জুজুতে বিদায় নিল ৩ আফ্রিকান পরাশক্তি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম 
২৪ ঘণ্টার ঝড়ে চূর্ণ তিন আফ্রিকান দেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। সংগৃহীত ছবি
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে এক অলৌকিক ও রহস্যময় কাকতালীয় ঘটনা, যা এখন ফুটবল বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে বিশ্বমঞ্চ থেকে ছিটকে গেছে তিনটি আফ্রিকান পরাশক্তি। আর এই তিন বিদায়ের গল্পকে সুতোয় বেঁধে দিয়েছে ঘড়ির কাঁটার একটি নির্দিষ্ট ঘর- ‘৮৬তম মিনিট’। ম্যাচের ঠিক এই সময়েই ফলাফল নির্ধারক গোল হজম করে টুর্নামেন্টকে বিদায় জানাতে হয়েছে দলগুলোকে। এমন অবিশ্বাস্য মিলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন জোর গুঞ্জন উঠেছে এক নতুন তত্ত্ব নিয়ে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘৮৬তম মিনিটের অভিশাপ’।

এই অদ্ভুত ট্র্যাজেডির প্রথম শিকার আইভরি কোস্ট। নরওয়ের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে আমাদ দিয়াল্লোর দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার সব প্রস্তুতিই সেরে রেখেছিল আইভরি কোস্ট। কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। ম্যাচের ঠিক ৮৬তম মিনিটে নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের বুলেট গতির এক শটে চূর্ণ হয় আইভরি কোস্টের প্রতিরোধ। ২-১ ব্যবধানের সেই হারে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

আইভরি কোস্টের এই বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন যেন হুবহু একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর ভাগ্যে। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমে গোল করে অবিশ্বাস্য এক লিড নিয়েছিল কঙ্গো। ‘লেপার্ডস’ খ্যাত দলটির গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচের সিংহভাগ সময় পর্যন্ত সেই লিড আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের একদম শেষলগ্নে এসে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। পরপর দুই গোল করে কঙ্গোকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তিনি। আর কঙ্গো ভক্তদের বুক ভেঙে দিয়ে কেইনের সেই জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল ঠিক কোন সময়ে? হ্যাঁ, সেই ৮৬তম মিনিটে! ম্যাচটি ইংল্যান্ড জিতে নেয় ২-১ ব্যবধানে।


নাটকের যেন তখনও শেষ অঙ্ক বাকি ছিল। কঙ্গোর বিদায়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই ‘অভিশপ্ত’ তালিকায় যুক্ত হয় সেনেগালের নাম। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধ থেকেই ছড়ি ঘোরানো সেনেগাল ম্যাচের ৮৬তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলের নিরাপদ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। রূপকথার জয় যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, ঠিক তখনই আবার হাজির সেই ৮৬ মিনিটের জুজু। বেলজিয়ামের হয়ে রোমেলু লুকাকু ঠিক এই মিনিটে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। এই একটি গোলই যেন বদলে দেয় পুরো ম্যাচের গতিপথ। উজ্জীবিত বেলজিয়াম ৮৯তম মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের গোলে সমতা ফেরায় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে আরও এক গোল করে ৩-২ ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নেয়। সেনেগালের স্বপ্ন ভেস্তে যায় চোখের পলকে।

খুব দ্রুতই এই অবিশ্বাস্য মিলের ঘটনাটি ফুটবল ভক্তদের নজরে আসে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবল অনুরাগীরা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৮৬তম মিনিটকে আফ্রিকান দলগুলোর জন্য এক ধরণের ‘অভিশাপ’ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেন।

আফ্রিকান দলগুলোর ট্র্যাজেডির এই তালিকাটি অবশ্য আরও দীর্ঘ হতে পারত। মহাদেশটির আরেক প্রতিনিধি দক্ষিণ আফ্রিকাও ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এসে হৃদয় ভেঙেছে তাদের ভক্তদের। তবে তারা গোলটি হজম করেছিল ৯২তম মিনিটে; কানাডার কাছে ১-০ গোলের সেই হারে বিদায় নিতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকেও।

তবে এই সর্বগ্রাসী অভিশাপ ও একই পরিণতির হাত থেকে কোনোমতে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে মরক্কো। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে তারা ম্যাচটি ড্র করতে সমর্থ হয়। এরপর ভাগ্যের নির্মম জুয়া খেলা পেনাল্টি শুটআউটে ডাচদের পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   আফ্রিকা  পরাশক্তি  বিশ্বকাপ  নকআউট 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: