বাজেট : প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ

আবদুল আউয়াল ঠাকুর

মতামত

দিন চলে যায়, কথা থাকে বলে যে প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে- এবারের বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সে বেদনার সুর ভেসে

2026-07-03T05:17:27+00:00
2026-07-03T05:17:27+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
মতামত
বাজেট : প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ
আবদুল আউয়াল ঠাকুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দিন চলে যায়, কথা থাকে বলে যে প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে- এবারের বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সে বেদনার সুর ভেসে উঠল। এবারে যখন বাজেট পেশ ও পাস করা হলো ঠিক সে সময়ের দিনপঞ্জীতে যদি আমরা ’২৪ এড়িয়ে যাই তাহলে সেই রক্তাক্ত বিভীষিকাময় হিংস্র দানবীয় বিকৃত চেহারা ভেসে ওঠে। বুক চিতিয়ে দেওয়া আবু সাঈদরা সেদিন চিৎকার করে বলেছিল ফ্যাসিবাদ মানি না। এই না মানার কথাটা শুরু হয়েছিল ২০১৮-তে যা পরিণতি নিয়েছিল ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে। ২০১৮-এর নির্বাচনে ফ্যাসিবাদ পাকাপোক্ত হয়ে বসার খায়েশ পূর্ণ করার পরই যখন 
দেখা গেল গণতন্ত্রের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, আর ফেরার কোনো বৈধ পথ নেই, তখনই শুরু হয়েছিল অপসারণের শেষ খেলা।

৫ জুন সরকারি চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থায় কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা সার্কুলার অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন। এর পরপরই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে পড়ে শ্রেণি- পেশার লোকদের ৫৬ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা বাতিলের দাবিতে। ২৪ দিন বিরতির পর শিক্ষার্থীরা কোটা বতিলের দাবিতে ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে। 

আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণের জন্য ৪ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। এর পরের কথা আর লিখে লাভ নেই, আমরা সবাই জানি আসলে ফ্যাসিবাদের হিংস্র থাবা থেকে গোটা জাতিকে মুক্ত করতে বিএনপি এবং সমমনারা যে আন্দোলন বিগত ১৫ বছর ধরে করে আসছিল, যার সূচনা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সেই এক দফার আন্দোলন শিক্ষার্থীদের চেতনায় রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার রক্তে ভিজে ফ্যাসিবাদ পলায়ন করে। জাতি গণতন্ত্রমুখী হতে শুরু করে। 

এই প্রত্যাবর্তনের পথে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় বছর দুই দায়িত্ব পালন করে। কথাটা এ জন্য যে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনতার সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার যখন তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করল তখন দেশের অবস্থা নানা অস্থিরতায় রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও প্রতিবেশীর বড় ধরনের চাপে রয়েছে সরকার। সে কারণে বাজেট আলোচনায় নানা দিক রয়েছে। বলে রাখা ভালো, যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষ উপচে পড়েছিল, জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারও তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। অপ্রত্যাশিত হলেও দুর্নীতির দুষ্ট জালে তারাও আটকে ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্ত হওয়া দরকার। তার আলোচনার ব্যাখ্যা যাই হোক সেটি ভিন্ন দিক। কারণ ওই সরকার দুর্নীতিতে আওয়ামী লীগারদের ছাড়িয়ে গেছে তেমনটা হয়তো নয়। বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমান সরকারকে দুর্নীতির কালো ঘোড়াকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে অত্যন্ত শক্ত হাতে। বোধকরি অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় রেখে বাজেট অলোচনায় বিরোধী পক্ষ বারবার দুর্নীতি-অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলছেন। এটি খারাপ নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি রাখা গেলে তার উপকার সকলেই পাবে। 

একটি শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে শপথ নিয়ে গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তার প্রতিদান হিসেবে শাসকের বুটের লাথি, চোর ও চাটার দলের উপদ্রব অনিশ্চিত জীবনের কথামালা পেয়েছিল। কেন হয়েছিল তার নানা ব্যাখ্যা তখন এবং এখন করা হয়। আর এসব যে অর্থহীন প্যাঁচাল সেটি বুঝতে কোনো তত্ত্ব জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। কথাটা সোজা- যিনি ক্ষমতার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকেন তার সততা, সাধুতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার ওপরই নির্ভর করে গোটা মন্ত্রিসভা কীভাবে চলবে। আর সেটাই হচ্ছে মৌলিক নির্দেশাবলি। গভীর তাত্ত্বিক আলোচনায় না গিয়ে দুয়েকটি উদাহরণ দিই। গেল রমজানে পণ্যের দাম বাড়েনি। অথচ ফ্যাসিবাদের আমলে যখনই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পণ্যমূল্য কমাতে বলা হতো পরের দিনই বাজারে পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম উঠত। মনে করা হয় আসলে ডেকে কমিশনটা নিয়ে নেওয়া হতো।

যার চাপ জনগণের ওপর পড়ত। অনুরূপ ঘটনা বাজেটের বেলাতেও হতো। বাজেট ঘোষণার আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা জেনে যেত বাজেটে কোন পণ্যের দাম কত বাড়ছে। দেখা যেত হঠাৎ করে নির্দিষ্ট পণ্য উধাও হয়ে যেত। বাজেটের পর বর্ধিত মূল্যে তা বাজারে ফেরত আসত। এবারের বাজারের দিকে তাকান। বাজেটের আগে-পরে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। বাজেটে চিংড়ি, ওষুধ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি পাইপ ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা, নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর পরেও কথা রয়েছে।

ইতিমধ্যে সরকার পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ তৈরির অঙ্গীকার করেছে। এসব যখন চলমান তখন সরকারপ্রধান চীন সফর করেছেন। চীনের সঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা হয়েছে। অবস্থা যখন এমনতর তখন সীমান্তে ভারত তার হিংসুটে আচরণ অব্যাহত রেখেছে। ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্করা নানা কথা বলছে। তারা মনে করছে, ভারত একটি যুদ্ধে জড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এ কথা যে একবারে ভিত্তিহীন তা না-ও হতে পারে। কারণ ভারত অভ্যন্তরীণভাবে যেসব সংকট মোকাবিলা করছে তা থেকে উত্তরণের জন্য একটি যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারলে তা তার সংকট মোচনে অনেকটা সহায়ক হবে হয়তো। 

বৈশ্বিক পরিস্থিতি নানা কারণে খুব একটা সহায়ক তা মনে করার কারণ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকার যদিও তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিকে যেভাবে সমন্বয় করেছে তাতে জনমনে কোনো ক্ষোভ তৈরি হবার পরিবর্তে ইতিবাচকতাই দেখা দিয়েছে। বাজেটের বড় সমালোচনা হচ্ছে তা সফল করার সক্ষমতা নিয়ে। আসলে আমরা যদি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনের সময় দেখি তা হলে আমরা বলতে পারি, একটি তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে তিনি সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তার সততা, গতিশীল নেতৃত্ব কাজের পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বাস্তবতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি জাতিকে আশার আলো দেখিয়েছিলেন। ঋণ করে পোলাও খাবার চেয়ে জমির শাক খেয়ে বেঁচে থাকার আগ্রহ ও উৎসাহ তিনি জুগিয়েছিলেন। আমাদের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি, অপচয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অপচয় খাতের রাশ টেনে ধরার প্রাণান্ত চেষ্টা করছে। বাজেট অধিবেশনের পর প্রথাগত খাবারের যে আয়োজন করা হতো প্রধানমন্ত্রী এবারে তা স্থগিত রেখেছেন। আসলে এক টাকা করে জমিয়ে যেমনি মাসে ৩০ টাকা জমানো যায়, তেমনি একটা বাড়তি খরচ করেও ৩০ টাকার অপচয় করা যায়। অপচয়কারীকে শয়তানের দোস্ত বলা হয়।

এ কথা বহুবার বহুভাবে বলা হয়েছে, অপচয় রোধ করা গেলে উন্নয়ন কোনো সমস্যা নয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া শক্ত হাতে অপচয় রোধ করেছিলেন। সামগ্রিকভাবে মানুষের মধ্যে যে অপপ্রবণতার জন্ম হয়েছে তার মূলে অপচয় ভোগবিলাসিতা কাজ করছে। চীনের প্রয়াত চেয়ারম্যান মাও সেতুং মনে করতেন মানুষ কেবল একটি পেট নিয়ে জন্মায় না, বরং সেই সঙ্গে তার দুটি হাত, দুটি পা ইত্যাদিও থাকে পেটের সংস্থানের জন্য। সুতরাং মানুষকে কাজে লাগাতে পারলে এবং ঠিকমতো সততার সঙ্গে তা লালন করা গেলে বেকারের হাতকে কর্মজীবী মানুষের হাতে পরিণত করা কোনো কঠিন কাজ নয়। আয় করে ব্যয় করা গেলে কোনো সমস্যা নয়।

তলাবিহীন সরকার কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল করেছে। সাবেক দুর্নীতিবাজ ব্যাংক পরিচালকদের ফিরে আসার পথ রুদ্ধ করেছে। এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা। দুর্নীতি, চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসা বন্ধ করা গেলে জাতীয় উন্নয়নকে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব। একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে বিগত সরকার স্যানেটারি ন্যাপকিনের ওপর করারোপ করেছিল। আর অন্যদিকে জাতি কী দেখতে পেল? একেক জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর স্ত্রীর আওতায় হাজার হাজার ভরি স্বর্ণ রয়েছে। সোজা হিসাবে বলা যায়, জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে স্বার্থসিদ্ধিই ছিল মূল কথা। গোটা সময় লুটপাটের অর্থর্নীতিতে অর্থ পাচার, সুইস ব্যাংকে টাকা জমানো, বেগমপাড়ায় বাড়ি কেনা এসব ছিল ক্ষমতাসীনদের আসল উদ্দেশ্য। 

উন্নয়ন করতে টাকার দরকার হয়। ইতিবাচক খাতে টাকা পাওয়া খুব কঠিন নয়। বিষয়টি নির্ভর করে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর, স্থিতিশীলতার ওপর। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমরা হা-হুতাশ থেকে মুক্ত হতে পারিনি। কারণ দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। কথিত ক্ষমতার টানাটানিতে কে কাকে ল্যাং মারবে সে প্রক্রিয়ার মধ্যে নিজেদের নিবিষ্ট রাখার কারণে আত্মউন্নয়ন কারও কারও হলেও জাতির আকাশে একটু একটু করে যে মেঘের জন্ম হয়েছে তা এখন অমানিশার কালো অন্ধকারে রূপ নেবার আশঙ্কা রয়েছে। 

ভারতীয়দের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে গিয়ে বেহিসাবে যেসব ঋণ দিয়েছে তারমধ্যে অবৈধ নির্বাচনের ব্যয়ও রয়েছে। অনৈতিক অবৈধ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে যারা বছরের পর বছর বাংলাদেশকে লুটে খেয়েছে তারা এখনো বসে নেই। সংসদের বাজেট আলোচনা অনুসরণ করলে দেখা যাবে সেই পুরোনো বুলিরই প্রতিধ্বনি হয়েছে। সরকারের সব কিছুই মানি না। এই না ধ্বনির নেতিবাচকতা নিয়ে আমরা কেউ সতর্ক নই। অনেকেরই ধারণা, অবস্থা আগের জায়গাতেই রয়েছে। আসলে ব্যাপারটি তা নয়।

এটা তো সত্যি যারা এখন সংসদে, রাজনীতিতে মাঠে রয়েছেন তারা সকলেই প্রত্যক্ষভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বিএনপি যে বাজেট দিয়েছে তাকে যদি খোলা মনে বিবেচনা করা যায় তাহলে দেখবেন বাজেটে বৈষম্যবিরোধী অন্দোলনের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। একটি ভারসাম্যমূলক অর্থনীতি গঠনের প্রয়াস রয়েছে। একটি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের রূপরেখা রয়েছে। এর রূপায়ন সম্ভব। অতীতেও উদাহরণ রয়েছে। 

ঐকমত্য জরুরি। কম কথা বলে বেশি কাজ করার নীতিতে থাকা প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছাকে রূপ দিতে অন্যায় অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে রক্তচক্ষু রেখে যদি আমরা জাতীয় উন্নয়নের রোল মডেলে হাঁটতে পারি তা হলে সম্ভবত ২৪ জুলাই যোদ্ধাদের রক্তভেজা বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহিদের রুহের মাগফিরাত হবে। যারা বুক চিতিয়ে প্রাণ দিয়েছেন তারা অন্তত অনুভব করবেন যে, আমরা তাদের স্বপ্নে গড়া বাংলাদেশ বানাতে কসুর করিনি। তা হলে আরেকটি অভ্যুত্থান না করে একটি সুস্থ ধারা অব্যাহত রাখা যাবে।

সিনিয়র সাংবাদিক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/আআ


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: