ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) ইরানের রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে এই শোক অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এতে অংশ নেন দেশটির হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিসহ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে, যাদের তারা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করে।
এই শোক অনুষ্ঠানে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ ফনেইশ। অন্যদিকে হামাসের প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ এবং আরেক শীর্ষ নেতা বাসেম নাইম।
এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তেহরানে এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন হামাসের সাবেক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ।
খামেনির শেষ বিদায়ের এই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর নেতা জিয়াদ আল-নাখালা এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ধাইফ আল্লাহ আল-শামিও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শুক্রবার থেকেই বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা খামেনির মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ তেহরান থেকে প্রথমে পবিত্র কুম শহরে নেওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে।
সবশেষে পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদ শহরে খামেনির দাফন সম্পন্ন করা হবে। এই উপলক্ষে আগামী কয়েকদিন ধরে পুরো ইরানজুড়ে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি