ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি এবং তাদের শোক প্রকাশ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাকে (খামেনি) ঘৃণা করে। কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এক বিতর্কিত ও বিস্ফোরক দাবিও করেন। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী চাইলে ওই জানাজায় উপস্থিত সবাইকে এক নিমেষেই ‘নির্মূল’ করে দিতে পারত। তবে তিনি তা করেননি, কারণ তেমন কিছু করলে আলোচনার জন্য আর কোনো পক্ষই অবশিষ্ট থাকবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাঁদের মধ্যকার পারস্পরিক সব আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি আরও জানান, জানাজার এই সময়টিতে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালাবে না।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে শনিবার রাজধানী তেহরানে লাখ লাখ মানুষ সমবেত হন। এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের কণ্ঠে সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর গভীর শোকের পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন দেখা গেছে।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষেরা খামেনির মৃত্যুকে নিজেদের পারিবারিক অভিভাবক হারানোর চেয়েও বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন।
একই সঙ্গে তারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত এবং কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সময়ের আলো/জেডি