নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের গ্রামে বর্বরোচিত তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ভদ্রবিলা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবারের ত্রিশটিরও বেশি ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ঘরের মূল্যবান সামগ্রী।
বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে হামলা ও লুটপাটের ভয়ে থমথমে গ্রাম ছেড়ে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর থেকে ধান-চাল ও শেষ সম্বলটুকু অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলা নিয়ে ভদ্রবিলা ও পলাইডাঙ্গা গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ৩ জুলাই পলাইডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা কাজী প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই ভদ্রবিলা গ্রামে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।
সরেজমিনে ভদ্রবিলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধুই ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। দোকানপাট, বসতঘর থেকে শুরু করে গোয়ালঘর কোনোকিছুই বাদ যায়নি হামলাকারীদের হাত থেকে। ঘরের ভেতরের খাট-পালং, আলনা, আলমারি ভেঙে তছনছ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী তাণ্ডবে সর্বস্ব হারানো জাহানারা বেগম বলেন, ‘ঘাম ঝরানো শ্রমে তিল তিল করে ২০ বছর ধরে এই সাজানো সংসার গড়েছিলাম। চোখের সামনে সব মাটিতে মিশিয়ে দিল। সব লুট করে নিয়ে গেছে, এখন আমাদের আর কিছুই বাকি নেই।’
এদিকে, গ্রামে নতুন করে কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান জানান, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/মহু