পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জবি আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ আলী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি মারধর করে। মারধরের শিকার হয়ে শিক্ষার্থীরা আত্মরক্ষার্থে স্থানীয় একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং ভেতর থেকে মূল গেট বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বাসাটি ঘেরাও করলেও দীর্ঘ সময় গেট না খোলায় অভিযুক্তরা সুযোগ বুঝে দোতলার ছাদ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে গেট আটকে রাখা বাসার মালিকসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেকজনকে আটক করে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের মধ্যে একজনকে আগেই থানায় নেওয়া হলেও বাসার মালিককে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘটনাস্থলেই বসিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ যখন তাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন উপস্থিত উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের একজন ওই আটক ব্যক্তিকে চড় মারেন। এর পরপরই পুলিশ কোনো প্রকার পূর্ব সতর্কতা বা হুঁশিয়ারি ছাড়াই উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসিরউদ্দিন বলেন, গেন্ডারিয়া থানার ওসি তাকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেছেন। ওসির তথ্যমতে, স্থানীয় এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার পর পুলিশ যখন ওই অভিযুক্তকে থানায় নিতে চায়, তখন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে মারধরের চেষ্টা করে এবং পুলিশ ভ্যানে তুলতে বাধা দেয়। মূলত সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘শুরুতে এক জবি শিক্ষার্থী স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে মারধরের শিকার হন। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়ালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এসে ওই বাড়িটি ঘেরাও করে। পুলিশ একজনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় উগ্র শিক্ষার্থীরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। চরম ধস্তাধস্তির মধ্যেও পুলিশ আটক ব্যক্তিকে নিরাপদে থানায় নিতে সক্ষম হয়।’
ওসি আরও যোগ করেন, ‘উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের এই হামলায় এডিসি স্যারসহ আমাদের পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ যদি তখন কঠোর অবস্থান না নিত, তবে আটক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হতে পারত। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/জেডি