স্বপ্নভাঙা রাতে নীরব বিদায়

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

কখনো কখনো ফুটবল কেবল একটি খেলা থাকে না, হয়ে ওঠে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক নির্মম গল্প। যেখানে

2026-07-09T04:20:56+00:00
2026-07-09T04:20:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬,
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
স্বপ্নভাঙা রাতে নীরব বিদায়
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ এএম 
মোহাম্মদ সালাহ। ছবি : সংগৃহীত
কখনো কখনো ফুটবল কেবল একটি খেলা থাকে না, হয়ে ওঠে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক নির্মম গল্প। যেখানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে যায় একটি দেশের ভাগ্য, একজন অধিনায়কের হাসি, কোটি মানুষের বিশ্বাস। মোহাম্মদ সালাহর জন্য বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর সেই রাত ছিল ঠিক তেমনই এক গল্প। শেষ বাঁশি বাজতেই স্কোরবোর্ডে লেখা হলো ৩-২। আর সেই স্কোরলাইনের আড়ালে হারিয়ে গেল মিসরের সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্নটি।

বিশ্বফুটবলে মোহাম্মদ সালাহর পরিচয় নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ক্লাব ফুটবলে তিনি প্রায় সবকিছুই জিতেছেন। ইউরোপের অন্যতম সেরা লিগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, অসংখ্য গোল করেছেন, জিতেছেন শিরোপা ও ব্যক্তিগত সম্মাননা। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালেই তার পরিচয় বদলে যায়। তখন তিনি শুধু একজন তারকা নন, হয়ে ওঠেন মিসরের কোটি মানুষের আশা, বিশ্বাস এবং সাহসের প্রতীক।

বহু বছর ধরেই মিসরের ফুটবল মানেই সালাহ। তিনি মাঠে থাকলে সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে। সেই বিশ্বাস নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে নেমেছিল মিসর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠে তারা মুখোমুখি হয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। ১৫ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সালাহরা। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। মুহূর্তেই ভেঙে যায় মিসরের রূপকথা।

শেষ বাঁশি বাজার পর কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন সালাহ। যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, কয়েক মিনিট আগেও যে স্বপ্নটি এত কাছে ছিল, সেটি এভাবে হারিয়ে যেতে পারে। সতীর্থরা একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, কিন্তু একজন অধিনায়কের বেদনা সবসময়ই একটু বেশি। কারণ জয়ের আনন্দ যেমন সবার আগে তার কাঁধে ওঠে, তেমনি পরাজয়ের ভারও সবচেয়ে বেশি বহন করতে হয় তাকেই।


হয়তো সেই মুহূর্তে সালাহর মনে পড়ে যাচ্ছিল নিজের পুরো পথচলা। মিসরের ছোট্ট গ্রাম নাগরিগ থেকে শুরু হওয়া যাত্রা, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভ্রমণ করে অনুশীলনে যাওয়া, ইউরোপে নিজের জায়গা তৈরি করার সংগ্রাম, চেলসিতে ব্যর্থতার পর ঘুরে দাঁড়ানো, তারপর লিভারপুলে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা—সবই যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। এত অর্জনের পরও বিশ্বকাপে নিজের দেশের জন্য একটি অমর অধ্যায় লেখার স্বপ্নটি আবারও অপূর্ণ থেকে গেল।

তবে এই বিদায়কে শুধু পরাজয়ের গল্প বললে ভুল হবে। কারণ সালাহ এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করেছেন, যারা বিশ্বাস করে মিসরও বড় দলের চোখে চোখ রেখে লড়তে পারে। তিনি শুধু গোল করেননি, বদলে দিয়েছেন একটি জাতির মানসিকতা। আফ্রিকার অসংখ্য তরুণকে শিখিয়েছেন, জন্মস্থান নয় স্বপ্ন, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো সালাহকে ট্রফি এনে দিতে পারেনি, কিন্তু এনে দিয়েছে অন্য এক সম্মান। ইতিহাসে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠা মিসর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাঁপিয়েছে। এই দল দেখিয়ে দিয়েছে, তারা আর শুধু অংশ নিতে আসে না, লড়তে আসে।

হয়তো একদিন মানুষ এই ম্যাচের স্কোরলাইন ভুলে যাবে। কিন্তু ভুলবে না সেই অধিনায়ককে, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়েননি। ভুলবে না সেই মানুষটিকে, যিনি ট্রফি না জিতেও একটি জাতির আত্মবিশ্বাস হয়ে উঠেছিলেন।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিসর। শেষ হয়েছে একটি স্বপ্নের যাত্রা। কিন্তু মোহাম্মদ সালাহর গল্প এখানেই শেষ নয়। কারণ কিছু ফুটবলার ট্রফি দিয়ে নয়, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েই অমর হয়ে থাকেন। সালাহ তেমনই একজন যার হারেও আছে অনুপ্রেরণা, যার চোখের জলও শেখায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে। তার অশ্রু পরাজয়ের নয়, বরং একটি জাতিকে স্বপ্ন দেখতে শেখানোর গর্বের প্রতীক।

সময়ের আলো/আরবিএন 




  বিষয়:   মোহাম্মদ সালাহ  বিশ্বকাপ 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: