প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানার রেকর্ডগড়া বোলিংও রক্ষা করতে পারেনি বাংলাদেশকে। ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে দিলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। ২৫ রানের পরাজয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ফলে আজ হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে বাঁচা-মরার লড়াই।
টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই সাফল্য পান অধিনায়ক মিরাজ। রানআউটের পর তাসকিন আহমেদের জোড়া আঘাতে ৩৬ রানেই তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর পুরো ম্যাচ দখলে নেন নাহিদ রানা। দুরন্ত গতি ও বাউন্সে স্বাগতিক ব্যাটারদের কাবু করে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২১ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। এটি শুধু তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংই নয়, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসেরও সেরা বোলিং ফিগার।
তবে এত কিছুর পরও সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ১৭ রানেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় জিম্বাবুয়ের পেসারদের শর্ট বলের ফাঁদে পড়ে উইকেট বিলিয়ে দেন। হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহানের ৪৯ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও হৃদয় ফেরার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা।
ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ের শেষ উইকেট জুটি। ৭০ রানে ৮ উইকেট হারানোর পরও রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান ন্যামহুরির ৮১ বলে ৬৩ রানের জুটিতে ১৪১ রান পর্যন্ত পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। সেই সময় পেসারদের বদলে রিশাদ হোসেন ও নিজেকে আক্রমণে আনেন মিরাজ, যা জিম্বাবুয়েকে চাপ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। ন্যামহুরি তার ৩৩ রানের মধ্যে ২৫ রানই করেন রিশাদ ও মিরাজের বলে।
অমন হারের পর অধিনায়ক মিরাজও ব্যাটিংকেই দায়ী করে বলেন, ‘প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে একটা জুটি হলে ভালো হতো, ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। তবে এই কন্ডিশনে ১৪২ রান তাড়া করাও সহজ না। আমরা চেষ্টা করছি ভালো করার।’
সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কাফ স্ট্রেইন থেকে সেরে ওঠা লিটন দাস ফিরতে পারেন দলে, সে ক্ষেত্রে জায়গা ছাড়তে হতে পারে নুরুল হাসানকে। পাশাপাশি বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামও একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। এখন অপেক্ষা ব্যাটিং ব্যর্থতার হতাশা কাটিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে সমতা ফেরাতে পারে কি না। নাকি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হারে।
সময়ের আলো/আরবিএন