২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনায় টগবগ করছে প্যারিস। সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্যারিস পুলিশ।
বুধবার (৮ জুলাই) ফরাসি সময় রাত ৯টা থেকে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। বংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হওয়া ম্যাচ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি, পটকা ও সব ধরনের পাইরোটেকনিক সামগ্রী ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে মরক্কোর পরাজয়ের পর দেশজুড়ে যে সহিংসতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাই এবার প্রশাসনকে আগেভাগে সতর্ক হতে বাধ্য করেছে। সে সময় ফ্রান্সজুড়ে ২৬৬ জনকে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৬৭ জনই ছিলেন প্যারিসে।
বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে শঁজেলিজে এলাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে অনেক দোকান মালিক আগাম দোকানের সামনে কাঠের সুরক্ষাব্যারিকেড স্থাপন করেছেন।
জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে শঁজেলিজের আশপাশের কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেট্রো লাইন–৬-এর চার্লস দ্য গল–এতোয়াল থেকে ত্রোকাদেরো পর্যন্ত স্টেশনগুলো সারা রাত বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি লাইন–৮, ৯, ১২ ও ১৪-এর কয়েকটি স্টেশনেও সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিস মহানগর এলাকায় প্রায় ৩ লাখ এবং সারা দেশে প্রায় ২২ লাখ মরক্কো বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। বড় এই প্রবাসী জনগোষ্ঠী এবং ম্যাচটির ব্যাপক গুরুত্ব বিবেচনায় ফ্রান্স-মরক্কো লড়াইকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
প্যারিস পুলিশের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোকে ঘিরে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের উল্লাস কিংবা হতাশা থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই নেওয়া হয়েছে এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সময়ের আলো/ এসএকে