টানা প্রায় ২০ ঘণ্টার রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে নওগাঁয় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জেলা শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাজার ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। একই সঙ্গে উজান থেকে আসা ঢলে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এক দিনে সর্বোচ্চ ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁর প্রধান নদী আত্রাইয়ের পানি ১ দশমিক ৮৭ মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে দ্রুতই সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে শহরের সিও অফিস এলাকা, নওগাঁ সরকারি কলেজ এলাকা, গোস্তহাটির মোড়, সুপারিপট্টি, চুড়িপট্টি, বাটার মোড়, ডাবপট্টি, পুরাতন হাসপাতাল সড়ক, ব্রিজের মোড়, কাঁচাবাজার, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, কাজীপাড়া ও সুলতানপুরসহ শহরের সিংহভাগ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বর্ষায় এই একই দুর্ভোগ তৈরি হয়। পৌরসভার তথ্যমতে, পৌর এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ টন পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার একটি বড় অংশ ড্রেন ও খালে ফেলার কারণে পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।
ভোগান্তির বিষয়ে নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পৌর এলাকায় প্রয়োজনীয় ড্রেনের ঘাটতি রয়েছে। এর ওপর ড্রেনে গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলা এবং নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চললেও জনবল সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি