বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ৬৮ ঘণ্টা পর মো. আসাদুল (১৭) নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে সৈকতসংলগ্ন ঝাউবনের দক্ষিণ প্রান্তে প্লাস্টিকের ফ্লুট (ভাসমান ড্রাম) তুলতে গিয়ে স্থানীয় আব্দুল আজিজ ও লতিফ হাওলাদার পানিতে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহটির কালো টি শার্ট দেখে আসাদুলের বলে শনাক্ত করেন তার নানা আব্দুস সোবহান।
নিহত আসাদুল বরগুনার আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মুছা হাওলাদারের ছেলে। তিনি চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আসাদুল তার চার বন্ধু ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে পাঁচজনই তলিয়ে যান। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও আসাদুল নিখোঁজ হন।
ঘটনার পর থেকেই তালতলী উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। টানা ৬৮ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর শুক্রবার সকালে সৈকতের ঝাউ বনসংলগ্ন এলাকা থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহটি আংশিক বিকৃত ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পাথরঘাটা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাগর ভদ্র বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। সাগরের তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজে সময় লাগলেও যৌথ প্রচেষ্টায় মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি সমুদ্রে গোসলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বিপজ্জনক স্রোতে না নামার জন্য পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিন দিন ধরে একমাত্র সন্তানকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষায় ছিলেন তার বাবা-মা। শেষ পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
সময়ের আলো/জোই