পাঁচ দিনের বন্যার পর পানি নামতে শুরু, তবু ভোগান্তির শেষ নেই

বান্দরবান প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ

2026-07-10T16:10:22+00:00
2026-07-10T16:13:33+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
পাঁচ দিনের বন্যার পর পানি নামতে শুরু, তবু ভোগান্তির শেষ নেই
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৪:১০ পিএম  আপডেট: ১০.০৭.২০২৬ ৪:১৩ পিএম
পাঁচ দিনের বন্যার পর পানি নামতে শুরু করেছে। ছবি : সময়ের আলো
টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ চারদিন ধরে পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

পানিবন্দী অনেক পরিবার স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদরে ৪৬টি, রুমায় ২৮টি, রোয়াংছড়িতে ১৯টি, থানচিতে ১৫টি, আলীকদমে ১৫টি, লামায় ৫৫টি এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪২টিসহ মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত বান্দরবান সদরের ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫ হাজার বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদফতরের বান্দরবান কার্যালয়ের অফিসার ইনচার্জ সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় ১১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাত কমে পানি কিছুটা নামলেও বান্দরবান পৌর এলাকার হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, ক্যংচিংঘাটা, বালাঘাটা, বরিলাশপাড়া, মারমা বাজার নদীপাড়, কাশেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, লেমুঝিরি, রেইচা ও গোয়ালিয়াখোলাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে এখনো কোমর থেকে গলা সমান পানি রয়েছে। এতে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা শহরের বালাঘাটা এলাকায় এখনো সড়কে কোমরসমান পানি রয়েছে। অন্যদিকে রেইচা, গোয়ালিয়াখোলা ও থুংখি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকাই মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পারাপারের ভাড়া ছিল ২০ টাকা, সেখানে জরুরি প্রয়োজনে অনেককে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে।

বালাঘাটা বাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজে শহরে যেতে হয়। বন্যার কারণে কয়েকদিন ধরে তিন চাকার ভ্যান ও রিকশায় জনপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়েছে। আজ সকাল থেকে পানি কিছুটা কমায় ভাড়া ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।


একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন বলেন, আমার তিনতলা বাড়ির নিচতলা পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে। ঘরে মূল্যবান জিনিসপত্র থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাইনি। প্রয়োজনীয় জিনিস ছাদে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছি। ঝুঁকি জেনেও গত চারদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৃতীয় তলায় অবস্থান করছি। আজ পানি কিছুটা কমেছে।


বান্দরবান সদর উপজেলার রেইচা এলাকার থুংখি পাড়ার বাসিন্দা উবাসিং মারমা বলেন, ২০২৩ সালে একবার ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিলাম। আবার ২০২৬ সালে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের এলাকার পাঁচটি পাড়া এখনো পানিবন্দী। মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। শত শত একর ক্ষেত-খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় খোলা ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ




  বিষয়:   বন্যা  পানি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: