বাঁশখালীর ৯০ ভাগ বাড়িঘর এখন পানির নিচে

বাঁশখালী প্রতিনিধি

সারাদেশ

স্মরণকালের ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বাঁশখালীতে। স্থানীয়রা জানান, বাঁশখালীর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম উপজেলার বুক চিঁড়ে বয়ে যাওয়া জলকদর খাল।

2026-07-10T15:05:33+00:00
2026-07-10T15:17:01+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বাঁশখালীর ৯০ ভাগ বাড়িঘর এখন পানির নিচে
বাঁশখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৫ পিএম  আপডেট: ১০.০৭.২০২৬ ৩:১৭ পিএম
ছবি : সময়ের আলো
স্মরণকালের ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বাঁশখালীতে। স্থানীয়রা জানান, বাঁশখালীর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম উপজেলার বুক চিঁড়ে বয়ে যাওয়া জলকদর খাল। এই খালের নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, চিংড়ি চাষের নামে প্রভাবশালী মহল স্লুইসগেট আটকে রাখায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢল আর চিংড়ি ঘেঁরের পানি আটকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর পাকা দালান ছাড়া প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বাড়িঘর এখন পানির নিচে। কোথাও গলা সমান, কোথাও কোমর সমান পানি। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ২১২টি গ্রামের অধিকাংশই এখন পানির তলায়।

কাথরিয়া ইউনিয়নের মানিকপাঠান গ্রামের বাসিন্দা রিফাত হোসেন বলেন, আমাদের উপকূলীয় এলাকা সাধারণত পানি দ্রুত নেমে যায়। বাড়িতে এত পানি আমাদের বয়সে দেখিনি আর। সবাই পানিবন্দি বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে।


বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মনির উদ্দিন বলেন, বিক্রির জন্য ৫০০ আড়ি ধান মজুদ রেখেছিলাম বাড়ির বারান্দায়। এরমধ্যে গতরাতে ঘর প্লাবিত হয়ে ১৫ বস্তা ধান ভিজে গেছে। ঘরের দরজায় তক্তা দিয়েও পানি আটকাতে পারিনি।

পাহাড়ি ঢল আর বানের পানি হঠাৎ করেই ঢুকে পড়েছে মানুষের ঘরে। প্রস্তুতির কোনো সুযোগই পাননি কেউ। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। ঘরে মজুদ না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে শুকনো খাবারেরও। মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে একের পর এক। ভেসে গেছে ধান-চাল ও ঘরের আসবাব। বিদ্যুৎ নেই কয়েক দিন ধরে। মোবাইলে চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগও। 

বাঁশখালী-চট্টগ্রাম মূল সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। পুকুর ও মাছের খামার ভেসে গেছে পানিতে। হাঁস-মুরগিও হারিয়েছেন অনেকে। অসুস্থ মানুষ আর গর্ভবতী নারীদের নিয়ে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েছেন পরিবারগুলো। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপকূল জুড়ে।

শেখেরখীল হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা প্রান্ত দেব বলেন, পাকা দালানের বাসিন্দারা কিছুটা নিরাপদ থাকলেও কাঁচা, টিনশেড ও মাটির ঘরগুলো পুরোপুরি ভাসছে পানিতে। পানি কমছে না। উল্টো বাড়ছে।

ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের বাসিন্দা জুনাইদুল ইসলাম জানান, পশ্চিম বাঁশখালীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম জলকদর খাল। খাল দখল হয়ে ভরাট হয়ে গেছে। স্লুইসগেটগুলোও অকার্যকর। বিভিন্ন জায়গায় মাছের ঘেরের জন্য দেওয়া বাঁধের কারণে পানি নামার পথও রুদ্ধ। এর ফলে পুরো এলাকা তলিয়ে আছে। বন্ধ হয়ে গেছে সড়কে যান চলাচল। ছনুয়ার তিন দিকে জলকদর ও পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগর। এই ইউনিয়ন থেকে সহজে পানি নিষ্কাশন হওয়ার কথা। কিন্তু চিংড়ি ঘেঁরের নামে প্রভাবশালীরা স্লুইসগেট আটকে রাখায় এই অবস্থা হয়েছে।

দুর্ভোগের এমন পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছে এক মানবিক দৃশ্য। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর চেচুরিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়া কয়েকজনের খবর পেয়ে ছুটে যায় বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের আট সদস্যের একটি দল। গলা সমান পানি ঠেলে তারা উদ্ধার করেন আটকে পড়া পাঁচ শিশু ও আট নারীকে। পরে স্থানান্তর করা হয় স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে।

এই উদ্ধার অভিযানের একটি ২১ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। যেখানে দেখা যায়— এক হাতে রশি, অন্য হাতে একটি পাতিল ধরে গলা সমান পানিতে সন্তর্পণে এগিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য। পাতিলের ভেতরেই ছিল আট মাস বয়সী এক শিশু। পাশে হাঁটতে থাকা আরেক সদস্য পাতিলের ওপর ধরে রেখেছিলেন ছাতা, যাতে বৃষ্টির পানি শিশুটির গায়ে না লাগে।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেছেন, আটকে থাকার খবর পেয়ে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালান, আর সেই সময় বড় একটি পাতিলে করেই শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   বাঁশখালী  বাড়িঘর  পানির নিচে  জলাবদ্ধতা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: