সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া সেই বাঘিনী দীর্ঘ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও তার প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে গেছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বাঘিনীটিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।
বন বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকার বনে শিকারিদের পেতে রাখা রশির ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়েছিল আনুমানিক ৯-১০ বছর বয়সী এই স্ত্রী বাঘটি। ফাঁদ থেকে ছুটে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় টানাটানি করায় বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে সেখানে পচন ধরে।
খবর পেয়ে পরদিন ৪ জানুয়ারি বন বিভাগের সদস্যরা ট্রাঙ্কুইলাইজার গান (অচেতন করার বন্দুক) ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনার বয়রায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শিকারিদের রশির ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ের প্রায় তিন ইঞ্চি পরিমাণ চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিয়মিত চিকিৎসা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে বাঘিনীটি ধাপে ধাপে সুস্থ হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় বাঘিনীটি কেবল তার স্বাভাবিক রূপই ফিরে পায়নি, বরং তার ওজন ও ক্ষিপ্রতা দুই-ই বেড়েছে। বর্তমানে সে নিজে শিকার করে খেতে সম্পূর্ণ সক্ষম।
ডিএফও রেজাউল করিম আরও জানান, গত ২১ মে বাঘ গবেষক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন বিভাগ একটি ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করে। সেই সভায় বিশেষজ্ঞদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, বাঘিনীটি সুস্থ হলে জুলাই মাসের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে তাকে আগের পরিবেশেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেকই আজ তাকে আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হলো।
সময়ের আলো/জোই