গোমা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নিল দুর্বৃত্তরা

বরিশাল ব্যুরো

সারাদেশ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত নবনির্মিত ‘গোমা সেতু’র নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে

2026-07-12T20:16:01+00:00
2026-07-12T20:16:01+00:00
 
  রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গোমা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নিল দুর্বৃত্তরা
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম 
নবনির্মিত গোমা সেতু। ছবি : সময়ের আলো
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত নবনির্মিত ‘গোমা সেতু’র নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে না হতেই দুর্বৃত্তরা সেতুর নিরাপত্তা রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সেতুটিতে এখনো স্ট্রিট লাইট (ল্যাম্পপোস্ট) স্থাপন না করায় রাতের বেলায় এটি অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন প্রতীক্ষিত ও কাঙ্ক্ষিত এই সেতুটির ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে এখন স্থানীয়দের মাঝে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা সেতুর বিভিন্ন অংশের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায়। সেতুতে কোনো নিরাপত্তা প্রহরী বা তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় অত্যন্ত সহজেই এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা জনমনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গত ১৭ মার্চ সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকেই নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে আসছে। এখনো পুরো সেতুতে আলোর কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই অন্ধকারের সুযোগে সেতুতে মাদকসেবীদের আড্ডা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি আলো না থাকায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের দাবি—বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটিতে দ্রুত স্ট্রিট লাইট স্থাপন, পুলিশি টহল জোরদার এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনকারী অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। নিয়মিত তদারকি না করা হলে এই রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ গোমা সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোয় নির্মাণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, চারটি ৮ মিটার ও একটি টির ৬ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, নদীর দুই তীরে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদীশাসন এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হয়েছে।

সওজ আরও জানায়, ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় গোমা সেতু প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে পরবর্তীতে কারিগরি নকশা পরিবর্তন এবং নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি করায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

মাসুম ফকির নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা দাবি করেন, নাদিম, রহিদ ও নেয়ামুল নামের তিন যুবক শুক্রবার রাতে সেতুর মাঝামাঝি অংশে নির্মাণাধীন নিরাপত্তা রেলিংয়ের ২৪টি নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা টের পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছেন। তবে এ চুরির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত যুবকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটি উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা রেলিংয়ের কিছু ফিনিশিং কাজ চলমান রয়েছে। মূলত ওই অংশ থেকেই কিছু নাট-বল্টু চুরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে সওজের প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।

স্ট্রিট লাইটের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, গোমা সেতুর মূল প্রকল্পে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কোনো আর্থিক বরাদ্দ ছিল না। তবে জনস্বার্থে এখানে আলোর ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুততম সময়ে সেতুতে লাইট স্থাপন করা হবে।

জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, গোমা সেতুর নাট-বল্টু খুলে নেওয়ার বা চুরির বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   গোমা সেতু  রেলিং  নাট-বল্টু  দুর্বৃত্ত  বরিশাল  বাকেরগঞ্জ উপজেলা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: