বন্যার পানি কমার পর রাঙামাটির চিত্র। ছবি : সময়ের আলো
রাঙামাটিতে পানি নেমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও, এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। এরমধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৭ হাজার ও বিলাইছড়ি উপজেলার মানুষসহ নতুন করে প্লাবিত জুরাছড়ি এবং বরকল উপজেলার বেশকিছু গ্রামের লোকজন রয়েছে। প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা কমবেশি ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার ১৩১ স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্গতদের আশ্রয়দানে জেলা প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে। তাই পানিবন্দি ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্র মুখো হচ্ছেন না। জেলায় সরকার ঘোষিত ২১২ টির মধ্যে ৫০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৬৩৭ জন রয়েছে।
এদিকে, জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও সদর উপজেলার মগবান এলাকায় পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি মহাসড়ক থেকে পানি সরে যাওয়ায় রাঙামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ এখন স্বাভাবিক হয়েছে। বান্দরবান জেলার সঙ্গেও বিকল্প সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ছবি : সময়ের আলো
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট ৫ টি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ৯৮ এমএসএলে ঠেকেছে। পানির স্তর ১০৯ এমএসএলে পৌঁছালে প্রকল্পের জন্য ঝুঁকি তৈরি হবে।
রোববার (১২ জুলাই) ২০২ মেগাওয়াট থেকে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পানির স্তর ১০৮ এমএসএলে পৌঁছালে ১৬ টি স্পীলওয়ে খুলে দেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, রাঙামাটির বিখ্যাত পর্যটন নগরী সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া ৫৬৬ জন পর্যটককে সেনা বাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সড়কের ওপর থেকে পানি সরে যেতেই, মেরামত কাজ শুরু করেছে। যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলেও, সাজেক ভ্রমণে এখনও পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাঙামাটির অনেক ফসলি জমি এবং মাছের ঘেরও।
রাঙামাটি মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর-খামারের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৭২লাখ টাকার। এর সিংহভাগ ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাঙামাটির বিভিন্ন সড়ক। সেগুলো সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক অনেক সড়কের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।