মেসির ইসরায়েল-কানেকশন বিতর্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

ফুটবল ক্যারিয়ারে শান্ত ও সংযত আচরণের পরিচিত লিওনেল মেসি। রাজনীতি কিংবা বড় কোনো বিতর্কে জড়াতে সচরাচর তাকে দেখা যায় না।

2026-07-13T11:29:57+00:00
2026-07-13T11:29:57+00:00
 
  সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
খেলা
মেসির ইসরায়েল-কানেকশন বিতর্ক
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৯ এএম 
লিওনেল মেসি। ছবি : সংগৃহীত
ফুটবল ক্যারিয়ারে শান্ত ও সংযত আচরণের পরিচিত লিওনেল মেসি। রাজনীতি কিংবা বড় কোনো বিতর্কে জড়াতে সচরাচর তাকে দেখা যায় না। তবে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার ইহুদি সংস্কৃতি এবং ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে। কখনো নিজের চুক্তির কারণে, আবার কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবেই জড়িয়েছেন রাজনৈতিক বিতর্কে।

চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল' মেসির ক্যারিয়ারের এমন ১০টি ঘটনা তুলে ধরেছে, যেখানে কোনো না কোনোভাবে ইসরায়েল বা ইহুদি সংস্কৃতির যোগসূত্র ছিল।

শুভেচ্ছা বার্তা ও শান্তি সফর
২০১৩ সালের জুলাইয়ে ইহুদিদের অলিম্পিক হিসেবে পরিচিত 'ম্যাকাবিয়া গেমসে' অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা দলকে শুভেচ্ছা জানান মেসি। এর আগে ২০১১ সালে বুয়েনস এইরেসে ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে এক বিচার প্রার্থনাবিষয়ক প্রচারণাতেও অংশ নেন তিনি। ২০১৩ সালের আগস্টে বার্সেলোনার হয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সফরে গিয়ে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ পরিদর্শন করেন এবং ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি শিশুদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়া, ২০১৪ সালে পোপ ফ্রান্সিসের উদ্যোগে রোমে আয়োজিত ‘ম্যাচ ফর পিস’-কেও সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি।

বুট দান ও ‘ইহুদি’ অপবাদ
২০১৬ সালে মিশরের একটি দাতব্য সংস্থায় নিজের ফুটবল বুট দান করার পর অদ্ভুত এক বিতর্কের মুখে পড়েন মেসি। মিশরের ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন মুখপাত্র আজমি মোগাহেদ এক টিভি অনুষ্ঠানে মেসিকে ‘ইহুদি ও জায়নবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মিশরের দরিদ্র মানুষের কোনো ইহুদি বা জায়নবাদীর সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

ম্যাচ বাতিল ও ফিলিস্তিনিদের হুমকি
২০১৮ সালের জুনে ইসরায়েলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একটি প্রীতি ম্যাচ বিডিএস (বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস) আন্দোলনের চাপের মুখে বাতিল হয়। সে সময় ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জিবরিল রাজুব সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, মেসি ইসরায়েলে খেলতে এলে তাঁর জার্সি ও ছবি পুড়িয়ে দিতে। এর জেরে রাজুবকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। তবে ২০১৯ সালে তেলআবিবে উরুগুয়ের বিপক্ষে এবং পরবর্তীতে পিএসজির হয়ে ইসরায়েলের মাটিতে ম্যাচ খেলেন মেসি।

ইসরায়েলি কোম্পানির দূত
বাণিজ্যিক চুক্তির অংশ হিসেবে ২০২০ সালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ‘অরক্যাম’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন মেসি। এর আগে ২০১৭ সালেও তেলআবিবভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'সিরিন ল্যাবস'-এর বৈশ্বিক দূত হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি।


প্রাণ বাঁচাল মেসির নাম
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার সময় এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে। এসথার কুনিও নামের ৯০ বছর বয়সী এক আর্জেন্টাইন বৃদ্ধা দাবি করেন, বন্দুকধারীরা যখন তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়, তখন তিনি জানান যে তিনি মেসির দেশের মানুষ। মেসির নাম শোনার পর হামলাকারী তাঁর সঙ্গে ছবি তোলে এবং তাঁকে কোনো ক্ষতি না করে ছেড়ে দেয়।

‘ইহুদি লবি’র বিতর্কিত দাবি
সম্প্রতি আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ের পর এক আলজেরিয়ান টেলিভিশন বিশ্লেষক দাবি করেন, মেসিকে ‘ইহুদি লবি’ রক্ষা করছে, যা পুরো বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের এক জনপ্রিয় টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর দাবি করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জেতা উচিত নয়।

এমনকি হিব্রু ভাষা শেখানোর জন্য ‘ওয়ার্ল্ড জায়নিস্ট অর্গানাইজেশন’ মেসির নাম ব্যবহার করে একটি প্রচারণাও চালিয়েছিল, যার অর্থ দাঁড়ায়—‘মেসি যেখানে যাবে, সেখানেই উৎসব হবে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   মেসি  ইসরায়েল  বিতর্ক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: