ভোলা জেলার মনপুরায় মো. আলাউদ্দিন নামে কৃষককে বিএনপি অফিসে ধরে নিয়ে ‘মারধর ও মাথা ন্যাড়া করার’ ঘটনায় বিএনপির ৫ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে মামলা করেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলাউদ্দিন।
মামলার আসামিরা হলেন- মো. দুলাল ওরফে দুলাল মেম্বার, ফরিদ, কালাম, মোশারফ ও কাদির। এদের সবার বাড়ি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে। এরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় চৌকিদার দিয়ে কৃষক আলাউদ্দিনকে বাংলাবাজার বিএনপি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অফিসের সার্টার বন্ধ করে তাকে মারধর করা হয়। এরপর বাংলাবাজারের নাপিত প্রিয়লালকে দিয়ে কৃষকের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এসময় এই ঘটনা কাউকে না বলার হুমকিও দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের ভয়ে তিনি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালেও যেতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৩ দিন পর মঙ্গলবার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন এবং বুধবার থানায় মামলা করেন।
মনপুরা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতব্বর ঘটনাটির জন্য নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সে যে দলেরই হোক, অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।’
এদিকে, এই ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল মেম্বার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নারীসংক্রান্ত বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগে কৃষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, মারধর করা হয়নি।’
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, মারধরের ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/মহু