নরসিংদীতে ২ মাস বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি লতা বেগমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নরসিংদী জেলা প্রবেশন কার্যালয়ের কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউসার আহমেদ ও তার বাবা আলমাছ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী ঘরে প্রবেশ করে বিছানায় শুয়ে থাকা একটি শিশুর পা সজোরে মুচড়ে দিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। এরপরই শিশুটি তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়, ২ মাস বয়সী শিশুটির পা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
তবে শিশুটির পরিবারের দাবি— পারিবারিক কলহের জেরে নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটলেও, শিশুটির পা ভাঙার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের কাউসার মিয়া ও সায়েবা বেগম দম্পতির সন্তান। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, মূল অভিযুক্ত শিশুর চাচি লতা বেগম (৩২), লতা বেগমের স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) ও লতা বেগমের বাবা আলমাছ মিয়া (৬০।
মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই অসুস্থতার কারণে শিশুটি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। বাড়ি ফেরার পরও শিশুটি প্রায়ই ঘরে কান্নাকাটি করত। শিশুর এই অস্বাভাবিক কান্নায় মায়ের সন্দেহ হলে তিনি গোপনে সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করেন। এছাড়া দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা কাউসার মিয়া বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী লতা বেগম গোপনে আমার শিশুকে নির্যাতন করত। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী গত ১১ জুলাই বিকেলে ঘরের ভেতর গোপনে একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ডার চালু করে রেখে যান। পরে শিশুর কান্না শুনে ঘরে এসে ভিডিওটি পরীক্ষা করতেই দেখা যায়, লতা বেগম আমার সন্তানের পা সজোরে মুচড়ে দিচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত আমার সন্তানের পা ভাঙেনি। আমরা পারিবারিকভাবে বসে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলাম।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই আমি নিজে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে, শিশুটির পা ভাঙেনি। তবে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হতো। এই ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত লতা বেগম বর্তমানে পলাতক থাকলেও তার স্বামী কাউসার আহমেদ ও বাবা আলমাছ মিয়াকে আমরা গ্রেফতার করেছি। লতা বেগমকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই