ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ কি নিতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র? এমন প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে সমরবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ চমকপ্রদ ‘সামরিক নাটক’ তৈরি করলেও তা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বিশাল ও ঝুঁকিপূর্ণ দায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি নাকচ করা হয়নি। সোমবার ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের কোনো অঞ্চল দখলের পরিকল্পনা করছে? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না। কারণ আমি যদি বলি, তবে তা বোকামি হবে।’ প্রেসিডেন্টের এই অস্পষ্ট অবস্থানই মূলত যুদ্ধের ময়দানে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
কিং’স কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ জানান, ‘কৌশলগত দিক থেকে’ যুক্তরাষ্ট্রের হয়তো একটি ছোট দ্বীপ দখলের সামর্থ্য আছে। কিন্তু সেটি ধরে রাখা এবং রসদ সরবরাহ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ, কিশম বা আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো ইরানের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি হওয়ায় সেগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারির সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে। ফলে দ্বীপ দখলের চেয়ে বরং দখলদারিত্ব বজায় রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অধ্যাপক নাদের হাশেমির মতে, এটি কেবল সামরিক বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক ঝুঁকিও বটে। তিনি বলেন, দ্বীপ দখলের এই ধারণা কেবলই তাত্ত্বিক পর্যায়ে রয়েছে। এর রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য অত্যন্ত চড়া, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।
সময়ের আলো/কহু