ভোলার মনপুরায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরে নিম্নাঞ্চল ৫-৬ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া, ঢাকা যাওয়ার একমাত্র রামেনওয়াজ লঞ্চঘাটটি জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ায়, শত শত যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ২টায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।
এদিকে, উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধহীন ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচরের অবস্থা খুবই নাজুক। ওই সমস্ত এলাকা ৫-৭ ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান কলাতলী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আমিন তালুকদার।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাশে ৬০ কলোনি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কলোনীতে বসবাসরত ৬০ পরিবারের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। কাউকে আবার ঘরের টিনের চালে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
৬০ কলোনীতে বসবাসরত বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বিবিসহ অনেকেই জানান, দিন-রাত দুইবেলা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে এলাকা। এতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘরের ওপরে টিনের চালে আশ্রয় নিতে হয় তাদের। রাতের জোয়ারে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সে কথাও জানান তারা।
অন্যদিকে, রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। পানি ডিঙিয়ে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, রামনেওয়াজ এলাকার পুরনো বেড়িবাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/মহু