নতুন আইন করাই যথেষ্ট নয় জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে

সম্পাদকীয়

মতামত

দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন অনাদায়ী ঋণ। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়েছে। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক

2026-07-18T04:47:51+00:00
2026-07-18T04:47:51+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
মতামত
খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা
নতুন আইন করাই যথেষ্ট নয় জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন অনাদায়ী ঋণ। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়েছে। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন (ডামা)’ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইনে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিনে পুনরুদ্ধার বা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে বিশেষায়িত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি, অবলোপন করা, পুনঃতফসিলকৃত এবং আদালতের স্থগিতাদেশে থাকা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। এটা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশের সমান। সংকটের গভীরতা বোঝার জন্য এই একটি তথ্যই যথেষ্ট। অর্থঋণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা, জামানত হস্তান্তরের জটিলতা এবং দুর্বল আদায় ব্যবস্থার কারণে বিপুল পরিমাণ টাকা বছরের পর বছর আটকে থাকে। প্রস্তাবিত আইনে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিকে জামানত বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। 

প্রয়োজনে ব্যবসা পুনর্গঠন, নতুন বিনিয়োগকারী আনা কিংবা সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হবে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি মডেল বিশ্বের অনেক দেশে ইতিবাচক ফল দিয়েছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা কাজ করতে পারে আশা করছেন কেউ কেউ।

আদায় ব্যবস্থায় দুর্বলতা আছে বলে অনেকে ঋণখেলাপি হয়ে পড়েন। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়। রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন, পরিচালনা পর্ষদের শাসনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও ঋণখেলাপির কারণ। নতুন আইন খেলাপি ঋণ কতটা কমাতে পারবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে এ কথা বলা যায় যে, ঋণ বিতরণের পুরোনো দুর্বলতা যদি  দূর না হয়, তা হলে আগামীতেও খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হবে। সমস্যার সমাধান অবশ্যই করতে হবে। পাশাপাশি সমস্যার মূল কারণেও হাত দিতে হবে।

বলা হচ্ছে, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কাছে খেলাপি ঋণ বিক্রি করা হলে ব্যাংক দ্রুত তারল্য ফিরে পাবে এবং নতুন ঋণ বিতরণে সক্ষম হবে। তবে এর ঝুঁকির বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। খেলাপি ঋণের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। যদি প্রভাবশালী গোষ্ঠী কম দামে বিপুল সম্পদ অধিগ্রহণের সুযোগ পায়, অথবা যদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তা হলে নতুন ব্যবস্থাই নতুন অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। 

তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে প্রস্তাবিত মনিটরিং ইউনিটকে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীন পরিচালকের বাধ্যবাধকতা, নিরীক্ষা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।

আইনটি চূড়ান্ত করার আগে অংশীজনদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। খেলাপি ঋণের বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছ নীতিমালা থাকতে হবে। জামানত হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় সেটা নিশ্চিত করা দরকার। সম্পদ পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট মানদণ্ড থাকা চাই। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদনে হতে হবে সতর্ক। ঝুঁকি মূল্যায়নে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। 

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থাও নিতে হবে। ব্যাংক খাতের সংস্কারকে একটি সমন্বিত নীতিগত কর্মসূচি হিসেবে দেখা হলে কাক্সিক্ষত সুফল মিলবে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   নতুন আইন  জবাবদিহি  নিশ্চিত  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: