কে হবে বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়ন

ড. মো. আনোয়ার হোসেন

মতামত

মহাকালের চাকা ঘুরে আবার এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যেখানে ফুটবল বিধাতা নিজে যেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে এক মহাকাব্য লেখার প্রস্তুতি

2026-07-19T05:41:05+00:00
2026-07-19T05:41:05+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
মতামত
কে হবে বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়ন
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মহাকালের চাকা ঘুরে আবার এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যেখানে ফুটবল বিধাতা নিজে যেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে এক মহাকাব্য লেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই রাত ১টায় নিউইয়র্কের সেই বিখ্যাত মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি- আর্জেন্টিনা এবং স্পেন। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে চলছে ধুকপুকানি, চায়ের কাপে ঝড় তুলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একদিকে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে ইউরোপ সেরাদের নতুন সাম্রাজ্য গড়ার তীব্র আকাক্সক্ষা।

এই ফাইনাল কেবল দুটি দেশের লড়াই নয়, এটি আসলে ফুটবলের দুটি ভিন্ন দর্শনের এক পরম সংঘাত।আলবিসেলেস্তেদের ঐতিহ্যবাহী আবেগময় ফুটবল বনাম লা রোজাদের নিখুঁত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের এই যুদ্ধ রূপ নিয়েছে এক ঐতিহাসিক গবেষণায়। ফুটবল পণ্ডিতরা পরিসংখ্যানের পাতা উল্টে চলেছেন, অথচ এই খেলায় যে পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় ভূমিকা রাখে মাঠের ভেতরের সেই ৯০ মিনিটের জাদু। নিউইয়র্কের আকাশ এখন টানটান উত্তেজনায় কাঁপছে, যার রেশ আছড়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরের তীরের বাংলাদেশেও।

লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লুকিয়ে আছে দুই প্রজন্মের দুই মহানায়কের পায়ের জাদুতে। লিওনেল মেসি, যার ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নেও প্রতিটি স্পর্শে মিশে থাকে বিশুদ্ধ ফুটবলীয় জাদুকরি। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল, যার পায়ের নিচে এখন ভবিষ্যতের ফুটবল বিশ্ব এবং যার তরুণদের জোশ বুড়োদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। মেসির অভিজ্ঞতা যেখানে শান্ত সমুদ্রের মতো গভীর, ইয়ামালের গতি সেখানে উত্তাল নদীর মতো অপ্রতিরোধ্য।

কোচ লিওনেল স্কালোনির রণকৌশল গত কয়েক বছর ধরে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে একের পর এক সাফল্য। স্কালোনি জানেন কীভাবে প্রবল চাপের মুখে শান্ত থেকে প্রতিপক্ষকে বধ করতে হয়, যা তাকে এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা মাস্টারমাইন্ডে পরিণত করেছে।

ঠিক উল্টো প্রান্তে স্প্যানিশ ডাগআউটে দাঁড়িয়ে আছেন লুইস দে ফুয়েন্তে, যিনি লা রোজাদের ফুটবলকে দিয়েছেন এক নতুন এবং ভয়ংকর রূপ। তরুণ ও অভিজ্ঞদের এক দারুণ মিশ্রণে তিনি এমন এক স্কোয়াড গড়েছেন, যা যেকোনো রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সক্ষম। ফাইনালে দে ফুয়েন্তের কৌশল স্কালোনির জন্য এক চরম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

আর্জেন্টিনার জন্য এই ম্যাচটি তাদের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তকমা ধরে রাখার এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বকে অমরত্ব দেওয়ার মিশন। কাতার বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর জয়ের পর থেকে তারা সাফল্যের যে চূড়ায় বসে আছে, সেখান থেকে সহজে নামতে রাজি নয়। ফাইনালে খেলার এই বিশাল অভিজ্ঞতা তাদের খেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপ সামলাতে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রাখবে।

অন্যদিকে স্পেন মাঠে নামছে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ সেরা হওয়ার সদ্যোত্থিত আত্মবিশ্বাস বুকে নিয়ে। ইউরোর সেই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের পর তারা এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের সিংহাসনটা নিজেদের করে নিতে চায়। স্প্যানিশ দলে বয়ে চলেছে তরুণদের জোশ, যারা কোনো অতীত ইতিহাস বা প্রতিপক্ষের নামের ভারে দমে যেতে শেখেনি। এই তরুণ রক্তই স্পেনের আক্রমণভাগকে করেছে অবিশ্বাস্য রকমের সতেজ এবং ক্ষিপ্র।

নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম এই ঐতিহাসিক মহাযুদ্ধের সাক্ষী হতে পুরোপুরি প্রস্তুত, যেখানে গ্যালারি ভরা হাজারো দর্শক মেতে উঠবে ফুটবল উৎসবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই মাঠের ঘাস ও আবহাওয়া দুই দলের জন্যই পরিচিত হলেও ফাইনালের কৃত্রিম আলোয় চাপ থাকবে আকাশচুম্বী। এই মাঠে যারা নিজেদের স্নায়ু ধরে রাখতে পারবে, ট্রফিটা শেষ পর্যন্ত তাদের হাতেই উঠবে। মাঠের ভেতরের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির গর্জনও খেলোয়াড়দের উদ্দীপ্ত করবে।

ইতিহাস বলে আর্জেন্টিনার আছে এক অসামান্য টাইব্রেকার ভাগ্য, যা তাদের বহু কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে এনেছে। যখনই ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়, আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা বুক বেঁধে আশা জাগায় যে তাদের জন্য এক অলৌকিক কিছু অপেক্ষা করছে। এই ভাগ্য কেবল ভাগ্যের জোরে নয়, বরং মানসিকভাবে প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার কারণে অর্জিত হয়েছে। পেনাল্টি শুটআউটের সেই চরম মুহূর্তে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পা কাঁপে না।

আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন দিবু মার্টিনেজ, যিনি একাই প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের জন্য এক মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক। টাইব্রেকারে তার নাচ আর অবিশ্বাস্য সব সেভ আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে বহু শিরোপা, যা তাকে এই দলের সমার্থক করে তুলেছে। পেনাল্টি বক্সে তার বিশাল উপস্থিতি ডিফেন্ডারদের দেয় বাড়তি সাহস এবং প্রতিপক্ষকে বাধ্য করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে। দিবুর চওড়া হাত দুটিই হয়তো আর্জেন্টিনার ট্রফি ধরে রাখার সবচেয়ে বড় ভরসা।

স্পেন শিবিরে আছেন দানি ওলমো, যার পায়ের জাদু বা ওলমো ম্যাজিক এবারের টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষকে বারবার বোকা বানিয়েছে। মাঝমাঠ ও আক্রমণের সংযোগস্থলে তার উপস্থিতি স্পেনের খেলাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়, যা ধরা প্রায় অসম্ভব। ওলমোর দূরপাল্লার শট এবং বক্সে নিখুঁত পাস দেওয়ার ক্ষমতা আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। তার একটি মুহূর্তের ব্যবধান গড়ে দেওয়া পাসই বদলে দিতে পারে ফাইনালের চিত্র।

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে জুলিয়ান আলভারেজের গতি এবং অক্লান্ত পরিশ্রম প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেয় না। তিনি ডিফেন্সের পেছনে দৌড়াতে ভালোবাসেন এবং হাই-প্রেসিং ফুটবলে দলের প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে কাজ করেন। আলভারেজের এই গতিশীলতা মেসিকে মাঠে কিছুটা স্বাধীনতা দেয়। স্পেনের হাই-লাইনের ডিফেন্সের বিরুদ্ধে আলভারেজের গতি হতে পারে মারাত্মক অস্ত্র।

স্পেন দলের ইঞ্জিন এবং আসল নিয়ামক হলেন রদ্রি, যাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ধরা হয়। রদ্রি মাঠে থাকা মানে স্পেনের খেলায় এক অদ্ভুত ভারসাম্য বজায় থাকা, যা প্রতিপক্ষকে সহজে আক্রমণ করতে দেয় না। তিনি যেমন প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝপথেই ধ্বংস করে দেন, তেমনি নিজের দলের আক্রমণের ভিত্তিটাও গড়ে দেন নিখুঁতভাবে। রদ্রিকে নিষ্ক্রিয় করতে না পারলে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচজুড়ে চরম মূল্য চুকাতে হতে পারে।

লাউতারো মার্টিনেজের বর্তমান ফর্ম আর্জেন্টিনার জন্য এক মস্ত বড় সুসংবাদ এবং প্রতিপক্ষের জন্য এক জ্বলন্ত সতর্কতা। বক্সের ভেতর তার ক্ষিপ্রতা এবং ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং এবারের বিশ্বকাপে তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বদলি হিসেবে নেমেও ম্যাচ জেতানোর যে ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, তা স্কালোনিকে এনে দিয়েছে এক দারুণ কৌশলগত সুবিধা। লাউতারো যদি ফাইনালে তার এই গোল ক্ষুধা বজায় রাখতে পারেন, তবে স্পেনের রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে।

কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতি-আক্রমণ হবে এই ম্যাচের অন্যতম প্রধান কৌশল, যেখানে দুই দলই প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থাকবে। স্পেনের অলআউট আক্রমণের সুযোগ নিয়ে আর্জেন্টিনা যদি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যেতে পারে, তবে গোল পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে বহুগুণ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা আক্রমণ করতে গিয়ে নিচে জায়গা ফেলে রাখলে স্পেনের গতিশীল উইঙ্গাররা তার ফায়দা তুলতে ভুল করবে না। এই দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণগুলো দর্শকদের আসন ছেড়ে উঠতে দেবে না।

উইং প্লে হবে স্পেনের আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার, যেখানে নিকো উইলিয়ামস এবং লামিন ইয়ামাল দুই প্রান্ত দিয়ে ঝড় তুলবেন। তাদের গতি ও ড্রিবলিংয়ের সামনে আর্জেন্টিনার ফুল-ব্যাকদের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে ম্যাচজুড়ে। উইং দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ক্রস করা বা ভেতরে ঢুকে শট নেওয়ার এই প্রবণতা রুখতে আর্জেন্টিনাকে ডাবল-মার্কিংয়ের আশ্রয় নিতে হতে পারে। স্পেনের এই দুই উইঙ্গার ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে রং বদলে দিতে পারেন।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে যদি এই দুই পরাশক্তিকে আলাদা করা না যায়, তবে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। ৩০ মিনিটের এই অতিরিক্ত সময়ে খেলোয়াড়দের শারীরিক শক্তির চেয়ে মানসিক দৃঢ়তা এবং স্ট্যামিনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ক্লান্ত পায়ে তখন নিখুঁত পাস দেওয়া বা ডিফেন্সের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়া এক অলৌকিক কাজের মতো মনে হয়। অতিরিক্ত সময়ের এই লড়াইয়ে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের ভূমিকা এবং কোচের ট্যাকটিকাল পরিবর্তন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

পরিসংখ্যানের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়, দুই দলের অতীত মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ সমানে সমান এবং রোমাঞ্চে ঠাসা। তবে বিশ্বকাপের ফাইনাল সম্পূর্ণ আলাদা এক মঞ্চ, যেখানে অতীত ইতিহাস কেবলই কিছু সংখ্যার দলিল মাত্র। স্পেনের তরুণ প্রজন্মের ক্ষিপ্রতা বনাম আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতার এই দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নেবে। ফুটবলপ্রেমীরা প্রস্তুত হচ্ছেন এক অতিমানবীয় লড়াই উপভোগ করার জন্য।

তা হলে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে এই ২০২৬ সালের ফুটবল মহাযুদ্ধ এবং উঁচিয়ে ধরবে সেই সোনালি ট্রফি? উত্তরটা লুকিয়ে আছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই সবুজ গালিচায়, যেখানে প্রতিটি সেকেন্ডে তৈরি হবে নতুন কোনো গল্প বা ট্র্যাজেডি। মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের রূপকথা নাকি স্পেনের তরুণ তুর্কিদের বিশ্বজয়ের নতুন অধ্যায়- তা দেখার জন্য পুরো পৃথিবী এখন উন্মুখ। ফুটবল দেবতা কার দিকে হাত বাড়িয়ে দেবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

এই ফুটবল মহোৎসব প্রমাণ করে যে, খেলাধুলা কীভাবে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে। আর্জেন্টিনা বা স্পেন- যার মাথায়ই উঠুক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট, দিনশেষে জয় হবে ফুটবলের সৌন্দর্য এবং মানবীয় আবেগের। ২০ জুলাইয়ের সেই গভীর রাত তাই কেবল একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন সোনালি পাতার সূচনা।

লেখক : প্রাবন্ধিক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   বিশ্ব  ফুটবল  চ্যাম্পিয়ন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: