ঘরে বাইরে চাপে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির দাবিদার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্য গত কয়েক দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে দলের সংসদ

2026-07-23T00:40:35+00:00
2026-07-23T00:40:35+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
ঘরে বাইরে চাপে জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ এএম 
গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির দাবিদার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্য গত কয়েক দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে দলের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর প্রথমে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ব্যাখ্যায় জানান, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম। এরপরই ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিতর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটে রূপ নেয়। দলীয় পর্যায়ে তদন্ত শেষে বুধবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে দল দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে নৈতিকতা, ব্যক্তিজীবনের শুদ্ধতা ও ইসলামি মূল্যবোধের কথা বলে এসেছে, সেই দলের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঘিরে এমন ঘটনা জামায়াতকে ঘরের ভেতরে যেমন অস্বস্তিতে ফেলেছে, তেমনই বাইরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার মুখেও পড়েছে।

গত সোমবার রাত থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একাধিক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ব্যক্তিগত মুহূর্তে দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক দাবি করেন, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট ও মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়ে। 

তবে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম। তিনি লেখেন, গত ১৭ জুন ঢাকায় মরিয়াম বেগমের বাবার বাসায় পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এই ব্যাখ্যার পর বিতর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, যদি বিয়ে বৈধ হয়ে থাকে, তা হলে দল কেন এটিকে নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখছে?

বিতর্কের জেরে গত বুধবার বিকালে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগের সাংগঠনিক তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। পরে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে তার বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলের এই সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট হয়েছে, বিষয়টি জামায়াত কেবল ব্যক্তিগত জীবন হিসেবে বিবেচনা করেনি বরং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে দেখেছে।

জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলীয় নেতৃত্বের আপত্তির জায়গা শুধু দ্বিতীয় বিয়ে নয় বরং একজন জনপ্রতিনিধির আচরণ, জনসমক্ষে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া এবং এ ঘটনায় সৃষ্ট জনমতের প্রতিক্রিয়া। দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেন, ইসলামি রাজনীতির দল হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ও জনআস্থার সঙ্গে জড়িত। ফলে ঘটনাটি উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না।

ভিডিও প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া। সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আল মামুন লিখেছেন, কত ত্যাগ, কত কুরবানি, কত কষ্ট, কত পেরেশানি! আহা, প্রিয় কাফেলায় কালি লাগিয়ে দিলেন। এই পোস্টে মন্তব্য করে অনেক জামায়াত সমর্থক হতাশা প্রকাশ করেন। একজন লেখেন, এখন তো আমাদের ঘরের দরজা দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকল না।

আরেকজন মন্তব্য করেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, সংগঠনের লোকদের ছাড় দেওয়া হয় না। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, এই ঘটনায় দলের দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় সমর্থকদের এমন প্রকাশ্য হতাশা বিরল ঘটনা এবং এটি জামায়াতের অভ্যন্তরীণ চাপেরও প্রতিফলন।

ঘটনাটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন আলেম-ওলামার মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ইসলামি চিন্তাবিদ নৈতিক জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ইসলামি রাজনীতির দাবিদার দলের নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনও জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় পড়ে। আবার কেউ তদন্ত শেষে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।


বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ বলেন, একজন সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক হিসেবে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষায়, এটি একজন জনপ্রতিনিধির মর্যাদার সঙ্গে যায় না।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক নেতা শাহিন ইসলাম ভিডিও বার্তায় বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের উচিত স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়া এবং দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের আদর্শিক ও নৈতিক রাজনীতির দল হিসেবে তুলে ধরেছে। দলটি নিয়মিত নেতৃত্বের ব্যক্তিজীবনের শুদ্ধতা, ইসলামি অনুশাসন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সে কারণে একজন বর্তমান সংসদ সদস্য ঘিরে এমন বিতর্ক দলের জন্য অন্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় অনেক বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতকে মূল্যায়ন করে তাদের ঘোষিত নৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে। ফলে এমন ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরপরই দ্রুত তদন্ত এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনেকেই রাজনৈতিক ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তবে তারা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এমন বিতর্কের প্রভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা শুধু দলীয় সিদ্ধান্ত দিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

সামনের দিনে জামায়াতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের ঘোষিত নৈতিক অবস্থানের প্রতি জনআস্থা ধরে রাখা। একই সঙ্গে দলকে ব্যাখ্যা দিতে হবে, একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তে ঠিক কোন আচরণকে ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং কেন দল এত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

এই ঘটনা কেবল একজন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়; এটি এমন এক রাজনৈতিক দলের জন্য ভাবমূর্তির সংকট, যারা দীর্ঘদিন ধরে নৈতিকতা ও আদর্শের প্রশ্নকে নিজেদের রাজনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে এসেছে।

অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও বিচারের দাবিতে শ্যামনগরে মিছিল-সমাবেশ : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বুধবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে তাকে উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা, সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য আশেক ই এলাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আবু সাঈদ, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদের আলম, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুলতানুল আরেফিন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মনিরুজ্জামান।

উপজেলা বিএনপির সদস্য আশেক ই এলাহী বলেন, এ ঘটনা কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হোক। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দাবি জানাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন বলেন, আমরা নারীদের নিরাপত্তা চাই। বড় বড় কথা বললেই হবে না, নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

পদ্মপুকুর ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম সমাবেশে বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু আজ তারা প্রতারিত বোধ করছেন। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। শ্যামনগরে আমরা গাজী নজরুলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তিনি তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘নৈতিক পদস্খলন’ ঘটেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তার পদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার নেই। তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের উদ্যোগ নিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা : সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন তার গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান।

গত মঙ্গলবার পল্লবী থানায় দায়ের করা এ মামলায় গাজী নজরুল ছাড়াও আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ওবায়দুর রহমানের অভিযোগ, এমপির ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ প্রতিবাদ করায় এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তাকে ‘মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা’ করেন আসামিরা। বাকি চার আসামি হলেন মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ, আমিনুর রহমান ও রাকিবুল হাসান।

তাদের মধ্যে আমিনুর রহমানকে মামলা হওয়ার পরপরই গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রাকিবুল হুদা। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামি আমিনুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি এ মামলার তদন্ত করে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান।

মামলায় বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি ‘চক্র’ নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুরের ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে।

এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের ‘নির্দেশে’ অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।

এতে বলা হয়, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান ‘কৌশলে’ ওবায়দুরকে তাদের বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে আমিনুরকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুর। তখন তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে তার ভাষ্য।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আরবিএন 



  বিষয়:   গাজী নজরুল ইসলাম  জামায়াত 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: