গাজা যুদ্ধকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সংস্থাটির দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় নিহত ১১ জন ফিলিস্তিনি ফুটবলার এবং একজন ফিফা আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের বিভিন্ন সশস্ত্র ইউনিটের সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
যুদ্ধ-পরবর্তী এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আইডিএফ জানায়, নিহত এসব ব্যক্তি ফুটবলের পাশাপাশি হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের বিভিন্ন সামরিক ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
আইডিএফের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ফিফার আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি মোহাম্মদ সামি মোহাম্মদ খাত্তাবের নাম। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার পাশাপাশি তিনি ইসলামিক জিহাদের ‘সেন্ট্রাল ফিল্ডস ব্রিগেড’-এর সদস্য ছিলেন।
একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ফিলিস্তিনি জাতীয় দল ও বিচ সকার দলের সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ বারাকাতের বিরুদ্ধেও। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে চালানো হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তাদের প্রকাশ করা কিছু ছবিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তবে একই সঙ্গে আইডিএফ স্বীকার করেছে, গাজা যুদ্ধে বহু বেসামরিক মানুষেরও প্রাণহানি ঘটেছে।
পর্তুগিজভাষী দেশগুলোর জন্য আইডিএফের রিজার্ভ মুখপাত্র মেজর রাফায়েল রোজেনসজাইন বলেন, এটি বেসামরিক মানুষের মৃত্যুকে অস্বীকার করার বিষয় নয়। সেটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ট্র্যাজেডি। তবে প্রতিটি ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, আগে থেকে তৈরি কোনো বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে গ্রহণ করা উচিত নয়।
আইডিএফ প্রকাশিত তালিকায় মোট ১২ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ফুটবলার, কোচ, গোলরক্ষক এবং একজন ফিফা আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি রয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-হামাস বা ইসলামিক জিহাদের সদস্য হিসেবে কাজ করা, হামাসের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নে প্লাটুন বা কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন, ড্রোন, অ্যান্টি-ট্যাংক ও অন্যান্য সামরিক ইউনিটে যুক্ত থাকা। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন-ফিলিস্তিনি জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ মোহাম্মদ হাসান বারাকাত, যাকে আইডিএফ ইসলামিক জিহাদের সদস্য বলে দাবি করেছে; মাহমুদ কামাল আল-রিফি, যার বিরুদ্ধে হামাসের ড্রোন ইউনিটের কোম্পানি কমান্ডার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে; ফুটবলার ও কোচ মোহাম্মদ মানসুর, যাকে হামাসের নুসেইরাত ব্যাটালিয়নের উপ-কমান্ডার বলা হয়েছে; আল-আহলি গাজার সাবেক ডিফেন্ডার আহমেদ আবু আল-আত্তা, যাকে ইসলামিক জিহাদের প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; ফিফা আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি মোহাম্মদ সামি খাত্তাব এবং আল-কাদিসিয়া ও খাদামাত রাফাহর সাবেক গোলরক্ষক মাহমুদ ওসামা আল-জাজার, যার বিরুদ্ধে ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে আইডিএফের প্রকাশিত এসব অভিযোগ এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হয়নি। হামাস কিংবা সংশ্লিষ্ট ফিলিস্তিনি ক্রীড়া সংগঠনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বহু ফিলিস্তিনি ফুটবলার, কোচ, রেফারি ও ক্রীড়া কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, নিহতদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আনা সর্বশেষ অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন