ভারতের লাদাখের পরিবেশ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন, দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতি পাওয়ার পরও তাকে কয়েক ঘণ্টা সরকারি সফদরজং হাসপাতাল থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। এ অভিযোগের সমর্থনে হাসপাতালের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ২৫ দিন ধরে অনশনে থাকা ওয়াংচুক হাসপাতালের করিডোরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তর্ক করছেন।
ভিডিওতে তিনি এক পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাদের বলুন আমাকে গ্রেপ্তার করতে। আমি একজন স্বাধীন নাগরিক।
তিনি আরও বলেন, অনশনের ২৫তম দিনে আপনারা আমাকে তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রেখেছেন। যদি মানসিক চাপে আমার মৃত্যু হয়, তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।
এ সময় পুলিশ সদস্য তাকে হয়রানি করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন। পরে ওয়াংচুককে হাসপাতালের এক কর্মীর সঙ্গে তর্ক করতেও দেখা যায়। তিনি ওই কর্মীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি কি ডাক্তার, নাকি কসাই?
ওয়াংচুকের দাবি, দিল্লি হাইকোর্ট দুপুর ২টার দিকে তাকে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই আদেশ গোপন রাখা হয়। বাধ্য হয়ে তাকে হাসপাতালের মেঝেতে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হয়।
তিনি বলেন, আমাদের তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার পরও যেতে দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ করতে হয়েছে।
তবে সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়াংচুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ভিডিওটি হাসপাতালের ‘ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ’ এলাকায় ধারণ করা হয়েছে এবং তখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের লিখিত আদেশ হাতে পায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, লিখিত আদেশ পাওয়ার পরই ২১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৮ জুলাই পুলিশ তাকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সময়ের আলো/কেএইচ