সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীতপিপাসুদের হৃদয় জয় করে নেন একের পর এক গান গেয়ে। ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ শিরোনামের এই আয়োজন ছিল শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে রুনা লায়লার প্রথম পূর্ণাঙ্গ একক কনসার্ট। যদিও এর আগে দুই-তিনবার এই মঞ্চে গান গেয়েছেন তবে অন্যদের সঙ্গে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে নিজের প্রথম মঞ্চে গান গাওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন রুনা লায়লা। জানান, মাত্র ছয় বছর বয়সে করাচিতে প্রথমবার মঞ্চে গান করেন তিনি। এক অনুষ্ঠানে তার বড় বোনের গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় মঞ্চে ওঠেন রুনা লায়লা। সেই আকস্মিক পরিবেশনাই তার জীবনের প্রথম মঞ্চ গানের অভিজ্ঞতা। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে শিল্পকলার এমন আয়োজনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন শিল্পী।
মিলনায়তনের ভেতর ও বাইরে কানায় কানায় পূর্ণ আসরে দেশাত্মবোধক গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন দেশবরেণ্য এই শিল্পী। একে একে নিজের জনপ্রিয় দশটি গানের সুরে মাতিয়ে তোলেন দর্শকদের। ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানলেও দর্শকদের উম্মাদনা যেন শেষ হওয়ার নয়। পুরো অনুষ্ঠানে শুধু একটি কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল- এখনও কেমন করে সাবলীলভাবে এসব গান গাইলেন তিনি! আসলে রুনা লায়লার তুলনা রুনা লায়লাই। কণ্ঠ থেকে তিনি যে সুর ছড়িয়েছেন, সেই সুরে তারুণ্যের উন্মাদনা ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানে রুনা লায়লার প্রতিটি গানের পরিবেশনা শেষে নাট্যজন আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় দর্শক-শ্রোতাদের মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে গানের আবেদন শিল্পীকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছে।
শুধু গানই নয়, একই মঞ্চে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে শিল্পীকে প্রদান করা হয় সম্মাননা। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনের সভাপতিত্বে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম ও সচিব কানিজ ফাতেমা।
সময়ের আলো/এসএকে